সুপ্রিম কোর্টকেও তোয়াক্কা নেই? ২৫% ডিএ না মেটানোয় রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা!

মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে নবান্ন বনাম রাজ্য সরকারি কর্মীদের লড়াই এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে রাজ্যের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’র (Contempt of Court) মামলা নিয়ে ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন সরকারি কর্মীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’।
কেন এই আইনি পদক্ষেপ? সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। বকেয়ার অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আদালত রায় দিলেও সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো অর্থ বরাদ্দ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। শুধু তাই নয়, বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর জন্য আদালত যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে দিয়েছিল, সেই কমিটির সঙ্গেও রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ। ভাস্কর ঘোষের দাবি, কমিটি আলোচনার জন্য সময় চাইলেও নবান্নের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে নোটিশ: আদালত অবমাননার মামলা করার আগে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় কর্মীরা এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট ও অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
আগামী দিনে কী হতে পারে? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, কমিটির সুপারিশ মেনে ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু তার আগে ২৫ শতাংশ বকেয়া নিয়ে সরকারের এই ‘মৌনতা’ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যদি আদালত এই অবমাননার মামলা গ্রহণ করে, তবে নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা দিয়ে জবাবদিহি করতে হতে পারে। ভোটের মুখে ডিএ নিয়ে এই নতুন আইনি জট রাজ্য প্রশাসনের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।