ডিএ নিয়ে সুপ্রিম ধামাকা! ৩১ মার্চের মধ্যেই পকেটে ঢুকবে মোটা টাকা, খুশির হাওয়া সরকারি মহলে

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ কোনো দয়া বা দান নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। আদালতের কড়া নির্দেশে এবার চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের বকেয়া টাকা ঢোকার পথ প্রশস্ত হলো।
আদালতের কড়া সময়সীমা: শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পঞ্চম বেতন কমিশনের আমলের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ২৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি আগামী ৬ মার্চের মধ্যেই কর্মীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন রাজ্যের প্রায় ১২ থেকে ২০ লক্ষ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী।
বাকি ৭৫ শতাংশের ভবিষ্যৎ: বাকি বকেয়া অর্থ কীভাবে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করতে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে আদালত। এই কমিটি আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়ার সঠিক অঙ্ক এবং পেমেন্ট শিডিউল চূড়ান্ত করবে। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, আদালতের নির্দেশিত ২৫ শতাংশ এবং কমিটির সুপারিশ মিলিয়ে মার্চ মাসেই কর্মীরা প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পেয়ে যেতে পারেন।
আর্থিক অনটনের যুক্তি খারিজ: রাজ্য সরকার বারংবার আর্থিক সংকটের দোহাই দিলেও আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার অজুহাতে কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রাখা যাবে না। অন্যদিকে, কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্য পদের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকেই সরকার এই বকেয়া অনায়াসে মেটাতে পারে। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্য সরকারকে আদালতের কাছে এই নির্দেশের পালনের রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দিতে হবে। সব মিলিয়ে, বসন্তের শুরুতেই বকেয়া ডিএ-র খবরে খুশির জোয়ার সরকারি কর্মীদের অন্দরে।