মাঝরাতে বাইপাসে জীতু কমলের লুকানো হানা! অগ্নিদেবের ‘চোর’ কি সমাজের মুখোশ খুলবে?

তিলোত্তমার রাজপথে যখন নিস্তব্ধতা নামে, তখনই বাইপাসের ধারে শুরু হয় ‘চোর’-এর কারবার। না, কোনো অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি ‘চোর’-এর শুটিংয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর ব্যস্ত থাকলেন অভিনেতা জীতু কমল এবং রাজেশ শর্মা। নৈহাটির বড় মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু হওয়া এই ছবির হাল শক্ত হাতে ধরেছেন অগ্নিজায়া সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন পর পরিচালনায় ফিরছেন অগ্নিদেব, আর তাঁর নতুন এই ছবিতে উঠে আসবে সমাজের এক চরম ও কঠিন বাস্তব।

এই ছবিতে ‘চোর’ বিষয়টি মূলত একটি রূপক। অগ্নিদেবের কথায়, “বর্তমানে টাকাই সবচেয়ে বড় ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ছোট ছোট চোরদের ধরছি, কিন্তু যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের ছোঁয়াও যাচ্ছে না।” ছবির অনুপ্রেরণা হিসেবে উঠে এসেছে মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার সেই ১৩ বছরের কিশোরের করুণ কাহিনী, যাকে চিপস চুরির অপবাদে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিল। একদিকে সামান্য কয়েক টাকার অপরাধে চরম শাস্তি, আর অন্যদিকে বড় বড় রাঘব বোয়ালদের আড়াল— এই বৈষম্যকেই বড়পর্দায় তুলে ধরবেন জীতু কমল।

ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায় এবং সংলাপের দায়িত্বে রয়েছেন সুদীপা। বৃহস্পতিবার রাতে বাইপাসের ধারে শুটিং দেখতে হাজির হয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তীও। ছবিতে জীতু কমল ও রাজেশ শর্মা ছাড়াও রয়েছেন বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, বরুণ চন্দ, দেবলীনা কুমার এবং মানসী সিনহার মতো একঝাঁক তারকা। ছবির বেশিরভাগ শুটিংই হবে রাতের অন্ধকারে, শহরের অলিগলিতে। ২০১৮ সালের পর ২০২৬-এ অগ্নিদেবের এই সামাজিক বার্তা ধর্মী ছবি বাংলা সিনেমার দর্শকদের কতটুকু ভাবিয়ে তুলবে, সেটাই এখন দেখার।