সতর্ক! যুবসাথীর অনলাইন আবেদনে বড় বদল, দিনের বেলা খোলা থাকবে না পোর্টাল? জানুন নয়া সময়সীমা

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হলো ‘যুবসাথী’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে বেকার ভাতা পাবেন। আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। তবে অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। ২৪ ঘণ্টার বদলে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুবসাথী পোর্টালে (https://apas.wb.gov.in) অনলাইনে আবেদন করা যাবে শুধুমাত্র সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত। দিনের বেলা, অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সরকারি ‘স্বনির্ভর বাংলা’ ক্যাম্পগুলিতে অফলাইন আবেদন ও আনুষঙ্গিক কাজ চলবে বলে পোর্টালটি অনলাইনে ব্যবহারের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে।

কারা পাবেন এই সুবিধা? যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো আবেদনকারী যদি ইএসআই (ESI) বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) সুবিধাভোগী হন, তবে তিনি এই প্রকল্পে ব্রাত্য থাকবেন। অর্থাৎ, সত্যিই কর্মহীন কি না, তা কড়াভাবে যাচাই করা হবে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, কোনো পড়ুয়া সরকারি স্কলারশিপ পেলেও এই ১৫০০ টাকা পেতে পারেন। কিন্তু অন্য কোনো সরকারি ভাতা (যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা বার্ধক্য ভাতা) পেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না।

এই প্রকল্পের অধীনে একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ ৫ বছর বা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। ৫ বছরে সব মিলিয়ে মোট ৯০ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। তবে মাঝে কর্মসংস্থান হলে তা অবিলম্বে সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক। অনলাইনে আবেদনের জন্য আধার কার্ড, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও মার্কশিট, ব্যাঙ্ক পাসবুক এবং পাসপোর্ট সাইজ ফটো স্ক্যান করে রাখা জরুরি। সময়ের এই কড়াকড়ি মাথায় রেখেই আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।