“হুমায়ুন কবীর হবেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী!” শমীকের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। বৃহস্পতিবার আসানসোলের কুলটিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে শাসক দল তৃণমূল এবং বামফ্রন্ট থেকে শতাধিক কর্মী গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। কুলটির বিধায়ক ডাঃ অজয় পোদ্দারের উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভা থেকে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে নিশানা করেন। দলবদলু নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা বুম্বা চৌধুরী, যিনি তৃণমূলকে একটি ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর ভাষণে দাবি করেন, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে প্রায় ৩০০ জন রাজনৈতিক কর্মী খুন হয়েছেন, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বই দায়ী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “২০২৬-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করলেও বিজেপিই জিতবে।” এছাড়াও তিনি মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূলের ‘বি-টিম’ বলে উল্লেখ করে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর মতে, আসন কম পড়লে হুমায়ুন কবীরের সাহায্য নিয়ে সরকার গড়বে তৃণমূল এবং তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিজেপি বারবার অনুপ্রবেশ ও ভারত দখলের চেষ্টার কথা বললেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্ণপাত করেনি।
তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শমীক ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে দক্ষিণবঙ্গে বিজেপি যখন ঘর গোছাচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে গেরুয়া শিবির। কার্শিয়াং-এর বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বৃহস্পতিবার কলকাতায় এসে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তাঁর এই যোগদান উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাহাড় ভাগ বা পৃথক রাজ্যের দাবিতে অনড় বিষ্ণুপ্রসাদ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েই দল ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।