“১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস, আড়াই কোটি প্রাণ বাঁচিয়েছি!” ভারত-পাক যুদ্ধ থামানো নিয়ে ট্রাম্পের নয়া বিষ্ফোরক দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে ফের একবার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কথা। গত বছরের এপ্রিল-মে মাসের সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির স্মৃতি উস্কে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করলেন, পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামিয়েছিলেন তিনি একাই। ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace) সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে পাশে বসিয়েই এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।

কী ঘটেছিল ট্রাম্পের বয়ানে?
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন পুরোদমে যুদ্ধ চলছিল এবং একের পর এক আকাশচুম্বী দামের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হচ্ছিল (১১টি জেট ধ্বংসের দাবি), ঠিক তখনই তিনি ময়দানে নামেন। তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শেহবাজ শরিফ—উভয়কেই ফোন করেছিলাম। আমি তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিই, যুদ্ধ না থামালে আমি দুই দেশের ওপর ২০০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক (Tariff) চাপাব এবং সমস্ত বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করব।” ট্রাম্পের কথায়, দুই দেশই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু যখনই কোটি কোটি ডলারের লোকসানের প্রশ্ন এল, তখনই তাঁরা পিছিয়ে আসেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, “টাকা-পয়সার চেয়ে বড় আর কিছুই নেই।”

আড়াই কোটি প্রাণ রক্ষার দাবি:
ট্রাম্প এদিন আরও দাবি করেন যে, তাঁর এই মধ্যস্থতার ফলে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। শেহবাজ শরিফকে সভাস্থলে দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, “উনি নিজেই আমাদের চিফ অফ স্টাফকে বলেছিলেন যে আমি না কি আড়াই কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি।” শেহবাজ শরিফও ট্রাম্পকে ‘দক্ষিণ এশিয়ার ত্রাতা’ বলে সম্বোধন করেন।

ভারতের অবস্থান ও প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor) শুরু করেছিল। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে প্রবল সংঘর্ষ বাঁধে। তবে ভারত শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই ‘মধ্যস্থতা’র দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, কোনও তৃতীয় পক্ষ নয়, বরং ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) স্তরের আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। ট্রাম্প আগে ৭টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করলেও এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১১ করেছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।