‘মমতার বাজেটে আমরা চাপে!’ আলিমুদ্দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সিপিএম নেতাদের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতেই রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সিপিআইএম-এর দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রুদ্ধদ্বার এই আলোচনায় দলের একাধিক জেলা নেতা খোলাখুলি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী বাজেট বামেদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি এবং নতুন ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের মাসিক ১৫০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা তৃণমূলকে জনসমর্থনে অনেকটাই এগিয়ে দিচ্ছে বলে বৈঠকে মত দিয়েছেন অনেকে।
সিপিএম নেতাদের একাংশের মতে, এপ্রিল থেকে যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা মিলবে জেনে জেলাজুড়ে যেভাবে ফর্ম ফিলাপের লাইন পড়ছে, তা সরাসরি ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে। বৈঠকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে আর্থিক প্রকল্পের মাধ্যমে ‘স্পর্শ’ করার এই কৌশল বামেদের প্রচারকে চাপে ফেলে দিয়েছে। এর মাঝেই দোসর হয়েছে তরুণ তুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়ার ঘোষণা। প্রতীক উরের পদত্যাগ নিয়ে বৈঠকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, উত্তরবঙ্গের এক নেতা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম পুরো বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার মুখ খুলবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রার্থী তালিকা নিয়েও বড় আপডেট মিলেছে আলিমুদ্দিন থেকে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৮০ শতাংশ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে বামেরা। বাকি ২০ শতাংশ আসনে শরিকদের সঙ্গে জট কাটলেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে প্রতীক উরের মতো তরুণ নেতৃত্বের দলত্যাগ এবং তৃণমূলের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের জনপ্রিয়তার মুখে দাঁড়িয়ে বামেরা ২০২৬-এর লড়াইয়ে কতটা অক্সিজেন পায়, এখন সেটাই দেখার।