DA বকেয়া নিয়ে মমতার সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের! ৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি, খুশিতে আত্মহারা লক্ষ লক্ষ কর্মী

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর এটি এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে, রাজ্য সরকার আর কর্মীদের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখতে পারবে না। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই বাংলার সরকারি কর্মীরা একটি বড়সড় আর্থিক সুখবর পেতে চলেছেন। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে কার্যত কোণঠাসা নবান্ন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় জমে থাকা সমস্ত বকেয়া ডিএ কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মহার্ঘ ভাতা কোনো দয়া বা দান নয়, বরং এটি কর্মীদের একটি আইনত বলবৎযোগ্য অধিকার (Legally Enforceable Right)। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জীবনযাপনের জন্য এটি একটি জরুরি হাতিয়ার।

আদালতের ডেডলাইন ও কিস্তির হিসাব:
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে বর্তমান অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে ফেলতে হবে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে যে, এই ২৫ শতাংশের প্রথম কিস্তিটি আগামী ৬ মার্চের মধ্যেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে হবে। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে প্রায় ১২ থেকে ২০ লক্ষ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া কীভাবে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করতে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের ওপর চাপের পাহাড়:
এই পরিস্থিতিতে কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্বরা অত্যন্ত আশাবাদী। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের চাপে সরকার এখন ব্যাকফুটে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। সেই বিপুল সংখ্যক পদের বেতন ও ভাতা বাবদ সরকারের যে টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, তা দিয়েই কর্মীদের বকেয়া মেটানো সম্ভব। তিনি আরও তোপ দেগে বলেন, “আমাদের হকের টাকা দিয়েই সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী বা মেলা-খেলার অনুদান দিচ্ছে।”

রাজ্য সরকার আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে এই দায় এড়াতে চাইলেও আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যকে এই নির্দেশ পালনের একটি ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে। সব মিলিয়ে, দোল-উৎসবের আগেই বাংলার সরকারি কর্মীদের ঘরে খুশির জোয়ার আসতে চলেছে।