পার্টির সদস্যপদ রিনিউ করাননি, প্রতীক উরের পথেই কি দীপ্সিতা?

বঙ্গ রাজনীতিতে ফের একবার বাম শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটলের গুঞ্জন। প্রতীক উর রহমানের ইস্তফা এবং রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে তাঁর সরব হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে তরুণী তুর্কি নেত্রী দীপ্সিতা ধর। সূত্রের খবর, এখনও নিজের দলীয় সদস্যপদ (Membership Card) রিনিউ করাননি দীপ্সিতা। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি প্রতীক উরের পথেই হাঁটতে চলেছেন জেএনইউ-র এই লড়াকু নেত্রী?

ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন দীপ্সিতা নিজের দলত্যাগের জল্পনাকে স্রেফ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দীপ্সিতা। তিনি পালটা প্রশ্ন তুলেছেন, দলীয় সদস্যপদ রিনিউ করার বিষয়টি সংবাদমাধ্যম জানল কী করে? তাঁর দাবি, এর নেপথ্যে কোনো গভীর ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে। দীপ্সিতার কথায়, “সবাই বলছে আমি নাকি জল মাপছি। বিষয়টিকে আমি মজার ছলে নিচ্ছি। আমি কোনো চিঠি দিইনি বা অন্য দলের সাথেও কথা বলছি না। এটি সুপরিকল্পিতভাবে ছড়ানো খবর।”

কেন এই মান-অভিমান? দলেরই একটি অংশের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করা দীপ্সিতা উত্তরপাড়ায় লিড পেয়েছিলেন। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই আসনটি থেকে লড়ার আশা রাখছিলেন। কিন্তু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সেখানে প্রার্থী হতে পারেন বামেদের আরেক জনপ্রিয় মুখ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। টিকিট বণ্টন নিয়ে এই মনোমালিন্য থেকেই কি দীপ্সিতার এই দূরত্ব? যদিও বাম বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের নাতনি সাফ জানিয়েছেন, কে কোথায় লড়াই করবে তা দলই ঠিক করবে।

প্রতীক উরের সঙ্গে কথোপকথন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীপ্সিতা জানান, প্রতীক উরের সাথে তাঁর কথা হয়েছে ঠিকই, তবে তা নিতান্তই পারিবারিক। দলত্যাগ বা রাজনীতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাঁর সদস্যপদ দিল্লির। সময় এলেই তিনি দিল্লি গিয়ে তা রিনিউ করে নেবেন।

প্রতীক উর রহমানের বিদায়ে যখন বাম শিবির কিছুটা কোণঠাসা, তখন দীপ্সিতাকে নিয়ে এই জল্পনা দলের অস্বস্তি আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।