আম্বানি বনাম আদানি! ভারতের বুকে ১০ লাখ কোটির AI বিপ্লব, ইন্টারনেটের গতি ও ডেটা সেন্টারের দুনিয়ায় আসতে চলেছে মহাপ্লাবন!

২০২৬ সালের ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ সাক্ষী থাকল ভারতের দুই শিল্পমহীরুহের এক ঐতিহাসিক ঘোষণার। আগামী ৭ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এবং এজ কম্পিউটিং-এর পরিকাঠামো গড়তে ১০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। পিছিয়ে নেই আদানি গোষ্ঠীও। ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের ‘ডেটা সেন্টার হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় সাড় ৮ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগের ব্লু-প্রিন্ট পেশ করলেন জিৎ আদানি।
আম্বানির লক্ষ্য ‘এজ কম্পিউটিং’ ও সুপারফাস্ট ইন্টারনেট মুকেশ আম্বানি জানান, জামনগরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে মাল্টি গিগাওয়াটের AI ডেটা সেন্টার। রিলায়েন্স জিও নেটওয়ার্কে এমন এক প্রযুক্তির স্তর (Edge Compute Layer) যুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে ইন্টারনেটে ল্যাটেন্সি বা দেরি হওয়ার সমস্যা চিরতরে ঘুচে যাবে। আম্বানির কথায়, “এটি স্রেফ কোনো সাময়িক বিনিয়োগ নয়, বরং আগামী ৬০ বছরের এক কৌশলগত অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের ভিত্তি।”
আদানির নজরে ‘ইন্টেলিজেন্স সেঞ্চুরি’ অন্যদিকে, আদানি গ্রুপের ডিরেক্টর জিৎ আদানি ভারতের নিজস্ব AI পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শক্তি (Energy), কম্পিউট-ক্লাউড এবং সার্ভিস—এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ভারত বিশ্বের বুদ্ধিমত্তার কেন্দ্রে পরিণত হবে। আদানির লক্ষ্য ঘরোয়াভাবে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড কম্পিউটিং তৈরি করা, যাতে স্টার্টআপ থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রই বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্বনির্ভর হতে পারে। ভারতের দুই ধনকুবেরের এই লড়াইতে আখেরে লাভ হবে দেশের সাধারণ মানুষেরই, যেখানে সস্তা ডেটা আর সুপারফাস্ট প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে।