পাহাড়ের ভাঁজে লুকানো এক স্বর্গের হদিস! মিরিকের কাছেই রয়েছে এমন গ্রাম, যার রূপ টেক্কা দেবে ইউরোপকেও!

উত্তরবঙ্গের পাহাড় মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে দার্জিলিংয়ের ম্যাল অথবা কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখর। কিন্তু পর্যটকদের ভিড় আর ঘিঞ্জি হোটেলের বাইরেও হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে আছে এমন কিছু গ্রাম, যেখানে পা রাখলে মনে হবে সময় থমকে দাঁড়িয়ে আছে। মিরিক মহকুমার এমনই এক মায়াবী এবং অফবিট গন্তব্য হলো বংকুলুং (Bunkulung), স্থানীয়দের কাছে যা ‘বুরখুলুং’ নামে পরিচিত।

প্রকৃতির রূপের ডালি মিরিক থেকে মাত্র ৮-১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস। চারিদিকে ঘন সবুজে মোড়া পাহাড়, আর তার বুক চিরে বয়ে চলেছে রুপোলি সুতোর মতো বালাসন নদী। পাহাড়ি ধাপে ধাপে চাষের জমি, মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা বাগান আর কমলেলেবুর সুবাস—সব মিলিয়ে বংকুলুং এক অনন্য অভিজ্ঞতার নাম। এখানকার জঙ্গলে কান পাতলে শোনা যায় ওক আর পাইনের দীর্ঘশ্বাস। শুধু তাই নয়, বংকুলুঙের আনাচ-কানাচে রয়েছে সুগন্ধি দারচিনির ক্ষেত, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

কী কী করবেন এখানে? যাঁরা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বংকুলুং আদর্শ। এখান থেকে ছোট ছোট পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করা যায়। জঙ্গলের চড়াই-উতরাই পথে রঙিন পাহাড়ি পাখির ডাক আপনার ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে দেবে। এখান থেকে খুব সহজেই ঘুরে নেওয়া যায় মিরিক লেক, বোকর মনেস্ট্রি এবং টিংলিং ভিউ পয়েন্ট। রাতে কাঠের হোম-স্টে’র জানলা দিয়ে মেঘের আনাগোনা আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে।

কীভাবে পৌঁছাবেন ও থাকার ব্যবস্থা এনজেপি (NJP) বা শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে বংকুলুং আসা যায়। সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। শেয়ার গাড়িতে আসতে চাইলে প্রথমে মিরিক পৌঁছে সেখান থেকে লোকাল ট্যাক্সি নিতে পারেন। থাকার জন্য এখানে বিলাসবহুল হোটেলের বদলে রয়েছে অত্যন্ত উন্নতমানের হোম-স্টে। পাহাড়ি মানুষের আতিথেয়তা আর ঘরের তৈরি টাটকা অর্গানিক খাবার আপনার ভ্রমণের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। থাকা-খাওয়া মিলিয়ে মাথাপিছু খরচ প্রতিদিন ১,৪০০ থেকে ১,৬০০ টাকার মধ্যে।