আরজি করের অসাধ্য সাধন: পা বাদ যাওয়ার মুখ থেকে শ্রমিককে ফেরালেন চিকিৎসকরা, খরচ দিল রাজ্য সরকার

চিকিৎসা বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় নয়া পালক জুড়ল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। উত্তর ২৪ পরগনার বীড়ার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী শ্রমিক রিজাউদ্দিন মণ্ডলের ডান পায়ের ‘ডিস্টাল ফিমার’ (উরুর নিচের হাড়) পুনর্গঠন করা হলো এক মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে সংগৃহীত হাড় প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এই বিরল অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালে এক ভয়াবহ লরি দুর্ঘটনায় রিজাউদ্দিনের পায়ের হাড়ের একটি বড় অংশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। একাধিক অস্ত্রোপচার ও প্লাস্টিক সার্জারির পরেও হাড়ের বড়সড় ঘাটতি (Bone Loss) মিটছিল না। চিকিৎসকদের কাছে শেষ দুটি বিকল্প ছিল— হয় কৃত্রিম প্রস্থেসিস বসানো অথবা পা কেটে বাদ দেওয়া। কিন্তু রোগীর বয়স কম হওয়ায় চিকিৎসকরা পা বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ নেন।

সাফল্যের নেপথ্যে: অপারেটিং সার্জন চিকিৎসক সুনীত হাজরা এবং অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের নেতৃত্বে এই জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়। মৃতদেহের টাটকা হাড় (Fresh Cadaveric Bone) অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কলকাতায় অমিল হওয়ায় চেন্নাই থেকে তা আনিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকার এই অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মঞ্জুর করে। গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে হাড় কলকাতায় আসার পর তা সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই পদ্ধতির ফলে রিজাউদ্দিনের হাঁটু কর্মক্ষম থাকবে এবং তিনি ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন।