“গরিব মানুষকে অধিকার দিয়েছেন মমতা”- ভবিষ্যৎপথ স্পষ্ট করলেন প্রতীক উর?

বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত! জল্পনা ছিলই, এবার তাতে কার্যত সিলমোহর দিলেন সদ্য সিপিএম-ত্যাগী যুব নেতা প্রতীক উর রহমান। বৃহস্পতিবার এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পের প্রশংসা করলেন তিনি, তাতে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে আর কোনো ‘রাখঢাক’ নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ডি-ট্যুর: এক সময় বামেদের মঞ্চ থেকে যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’কে ‘ভিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল, আজ সেই সুরেই বদল আনলেন প্রতীক। তাঁর সাফ কথা, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে আমরা ভিক্ষা বলেছিলাম, সেটা ভুল ছিল। আসলে গরিব মানুষকে অধিকার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” শুধু তাই নয়, যুবসাথীর মতো প্রকল্পের প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হতে দেখা গেল তাঁকে।

আলিমুদ্দিনের অন্দরে লবিবাজি ও অপমানের অভিযোগ: কেন ছাড়লেন দল? এর উত্তরে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রতীক। তাঁর অভিযোগ, দলের ভেতরে চরম লবিবাজির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। প্রতীকের প্রশ্ন, “বাংলা বাঁচাও যাত্রার তালিকায় কেন সৃজন ভট্টাচার্যের মতো জনপ্রিয় নেতার নাম নেই? এই প্রশ্ন করার অপরাধে গত দুই বছর আমায় কোনো পদ দেওয়া হয়নি।”

‘সেটিং’ তত্ত্ব ও সেলিমের বিরুদ্ধে তোপ: মহম্মদ সেলিমকে সরাসরি বিঁধে প্রতীক বলেন, “যখন রাজ্য সম্পাদক নিজে হুমায়ুন কবিরের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন সেটা সেটিং হয় না? আর আমি লড়াই করলে সেটা সেটিং? ওঁর খাস কিছু লোক আছে, তাঁদের কথাতেই দল চলে।” নিজের জনপ্রিয়তাই কি দলের নেতাদের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল? সেই ইঙ্গিত দিয়ে প্রতীক বলেন, “বলা হয়েছিল জনপ্রিয়তার জামা নাকি আমাকে পরানো হয়েছে, যা জিম করেও ফিট হবে না!”

তৃণমূল যাওয়ার জল্পনা: সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার পর প্রতীক উর রহমান এখন মুক্ত। কুণাল ঘোষের মুখে প্রতীকের প্রশংসা এবং স্বয়ং প্রতীকের মুখে মমতার প্রকল্পের গুণগান— সব মিলিয়ে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ডায়মন্ড হারবার থেকে আসা চিঠির প্রসঙ্গ টেনে তিনি যেভাবে রাজ্য নেতৃত্বের ‘দ্বিচারিতা’ ফাঁস করেছেন, তাতে আলিমুদ্দিনের অস্বস্তি যে বাড়বে, তা নিশ্চিত।