আধ্যাত্মিক সৌরভে মাতল বেলুড়: ঠাকুরের জন্মতিথিতে মঙ্গলারতি থেকে প্রসাদ বিতরণ, দেখুন সেদিনের পূর্ণাঙ্গ সূচি

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান আধ্যাত্মিক সাধক শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে এই পবিত্র দিনটি ঘিরে গঙ্গার তীরে বেলুড় মঠে শুরু হয়েছে সাড়ম্বর উদযাপন। ভোর থেকেই মঠ প্রাঙ্গণ ভক্তদের সমাগমে মুখরিত। বাতাসে ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর নাম-সংকীর্তনের সুরে এক অনাবিল আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে মঙ্গলারতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর মূল মন্দিরে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং নাম-সংকীর্তনে সারা আশ্রম প্রাঙ্গণ পবিত্র হয়ে ওঠে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় বিশেষ পুজো ও বৈদিক অগ্নিহোম। প্যান্ডেলে ভক্তদের জন্য আয়োজিত হয়েছে স্তোত্রপাঠ ও মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান। দুপুরে কয়েক হাজার ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মঠ কর্তৃপক্ষের তরফে।

২২ ফেব্রুয়ারি সাধারণের জন্য মহোৎসব: তিথি-পুজো আজ অনুষ্ঠিত হলেও, আগামী রবিবার অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হতে চলেছে বৃহত্তর জন-উৎসব। সেদিন লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই দিনের অনুষ্ঠান সূচি অত্যন্ত আকর্ষণীয়:

  • ভোর ৪:৩০: শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্দিরে মঙ্গলারতি।

  • সকাল ৮:০০: সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীদের বেদপাঠ ও ভজন।

  • সকাল ৮:৫০ – ৯:৩০: স্বামী স্তবপ্রিয়ানন্দ কর্তৃক রামকৃষ্ণ পুঁথি পাঠ ও ব্যাখ্যা।

  • সকাল ৯:৩৫ – ১০:৪৫: নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমির ছাত্রদের ভজন ও বাউল সংগীত।

  • দুপুর ১:৩৫ – ২:৪০: ঝাড়গ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের বিশেষ লোকনৃত্য।

  • বিকেল ৪:০০ – ৫:৫০: আঁটপুর কল্পতরু নাট্যতীর্থের নাটক ‘ব্রজের রাখাল, রাখাল রাজা’।

অন্যান্য আকর্ষণ: মঠ অফিস প্রাঙ্গণেও দিনভর চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অৰ্চন চক্রবর্তীর ভক্তিগীতি থেকে শুরু করে বিদ্যামন্দিরের ছাত্রদের গীতি-আলেখ্য ‘কে ওই আসিলরে কামারপুকুরে’—সবই থাকছে তালিকায়। মা সারদা সদাব্রত ভবনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত হাতে হাতে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় মন্দিরে হবে বিশেষ আরতি ও নৃত্যাঞ্জলি। মঠের এক সন্ন্যাসীর কথায়, “ঠাকুরের আদর্শ আজও আমাদের সহমর্মিতা ও সাম্যের পথ দেখায়।”