লজ্জার বিদায়! টি-২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবি অস্ট্রেলিয়ার, প্যাট কামিন্সদের নিয়ে ‘ফরেন্সিক রিভিউ’-এর ডাক

বিশ্ব ক্রিকেটের ‘দাদা’ বলে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার জন্য ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে প্রাক্তন চ্যাম্পিয়নদের। শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবোয়ের মতো দলের কাছে হার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA)। এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে এবার দলের পারফরম্যান্সের ওপর ‘ফরেন্সিক রিভিউ’ বা চুলচেরা বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অজি বোর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক টনি ডোডেমেইড দলের এই শোচনীয় অবস্থাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেই এই তদন্ত শুরু হবে। গ্রুপ ‘বি’-তে বর্তমানে চতুর্থ স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া শুক্রবার ওমানের বিরুদ্ধে তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে। সেই ম্যাচে জিতলেও সুপার এইটে যাওয়ার আর কোনো গাণিতিক সম্ভাবনা নেই অজিদের সামনে। অর্থাৎ, প্যাট কামিন্স ও মিচেল মার্শদের ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
ফিরে এল ২০০৯-এর অন্ধকার ইতিহাস: ২০০৯ সালের পর এই প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেল অজিরা। ২০২১-এর বিশ্বজয়ীদের এমন পতন ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। যদিও চোটের কারণে প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজেলউডের মতো তারকা বোলারদের পরিষেবা পায়নি দল, তবুও শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ের কাছে হারকে অজুহাত হিসেবে মানতে নারাজ বোর্ড কর্তারা। দলের ফিল্ডিং থেকে শুরু করে ব্যাটিং অর্ডার— সব কিছুই এই ফরেন্সিক রিভিউয়ের আতসকাঁচের তলায় থাকবে।
লক্ষ্য ২০২৮: ঢেলে সাজানো হচ্ছে দল: আগামী ২০২৮ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই। নিজেদের ঘরের মাঠে হারানো শিরোপা ফিরে পেতে এখন থেকেই কোমর বাঁধছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ডোডেমেইড বলেন, “আমরা প্রতিটি বিশ্বকাপই জিততে চাই। পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮। দেশের মাটিতে আমরা সেরা ফল নিশ্চিত করতে চাই।” ফরেন্সিক রিভিউয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে দলে বড়সড় রদবদল বা অনেক সিনিয়র ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।