লটারিতে কোটি টাকা না কি ঘাড়ে মস্ত বিপদ? স্বাতী-চিরঞ্জিৎ অভিনীত ‘ভাগ্যলক্ষ্মী বাম্পার’ নিয়ে তোলপাড় টলিপাড়া!

লটারির টিকিট কাটা অনেকেরই নেশা, আর সেই লটারিতে যদি কোটি টাকা লেগে যায়? আনন্দ হওয়ারই কথা। কিন্তু সেই প্রাপ্তি যদি আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়? ঠিক এই রকমই এক রুদ্ধশ্বাস ও হাসিতে মোড়া গল্প নিয়ে বড় পর্দায় আসছে পরিচালক ঋষভ দত্তের নতুন ছবি ‘ভাগ্যলক্ষ্মী বাম্পার’। কলকাতা ও মফঃস্বলের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিটি মূলত একটি ‘ড্রামেডি’, যেখানে ড্রামা এবং কমেডি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।
গল্পের নায়ক নারায়ণ পেশায় একজন ডিজিটাল ঘটক। কিন্তু নিজের জীবনের সমীকরণ মেলাতে সে ব্যর্থ। দেনার দায়ে জর্জরিত, ভাঙা সম্পর্ক আর একরাশ হতাশা নিয়ে দিন কাটছিল তার। ঠিক তখনই এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে কেনা একটি লটারির টিকিট বদলে দেয় সবটা। রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যায় নারায়ণ। কিন্তু গল্পের আসল টুইস্ট শুরু হয় এর পরেই।
অর্থের ঝলকানি নাকি কর্মফল? টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গেই নারায়ণের জীবনে শুরু হয় অদ্ভুত সব ঘটনা। স্বপ্নে হোক বা বাস্তবে, তার সামনে আবির্ভূত হন দেবী লক্ষ্মী। কিন্তু সেই দেবীর চোখেমুখে আনন্দের বদলে এক অদ্ভুত নীরব অসন্তোষ। এরপরই একে একে শুরু হয় বিশ্বাসঘাতকতা, একের পর এক বিপর্যয় এবং এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। নারায়ণের সাফল্যের রূপকথা মুহূর্তেই বিভীষিকায় পরিণত হয়। কলিযুগ আর সত্যযুগের দোলাচলে দাঁড়িয়ে নারায়ণ বুঝতে পারে, সব জেতাই আসলে জয় নয়।
তারকাখচিত কাস্টিং ও নির্মাতাদের ভাবনা: পরিচালক ঋষভ দত্তের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল এই ছবি। তিনি জানান, “২০২১ সালে অফিসেই এই ছবির ভাবনা মাথায় এসেছিল। এটি কেবল ভাগ্য বদলের গল্প নয়, বরং আমাদের বিবেক ও কর্মফলের এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নপত্র।” ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে স্বাতী মুখোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, সুব্রত সেনগুপ্ত, উন্মেষ গঙ্গোপাধ্যায়, স্বরলিপি ঘোষ এবং বিমল গিরির মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের। এছাড়াও রয়েছেন সুরজিৎ মাল ও শান্তনু মজুমদার।
সুমনা কাঞ্জিলাল ও এহসাস কাঞ্জিলালের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবির সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন শমীক গুহ রায়, সায়ন্তন মিস্ত্রি এবং অনুষ্টুপ মজুমদার। সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার মোড়কে মানবিক সিদ্ধান্তের কথা বলবে ‘ভাগ্যলক্ষ্মী বাম্পার’।