কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে কেন তুষ্টিকরণের রাজনীতি? লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধির আবহে কড়া বার্তা বিচারপতির

নির্বাচনের আগে ভোটারদের মন টানতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘বিনামূল্যে’ উপহার দেওয়ার যে হিড়িক পড়ে যায়, তাকে ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি থমকে দিয়ে আর কতদিন এভাবে তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলবে?”
ঠিক কী ঘটেছে? তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। ওই সংস্থাটি ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতেই আদালত জানায়, অধিকাংশ রাজ্যে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এই ধরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট জানায়, যারা বিল মেটাতে সক্ষম, তাঁদের কেন বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া হবে? এতে সৎ করদাতাদের ওপর বোঝা বাড়ছে।
কড়া পর্যবেক্ষণ আদালতের: বিচারপতিদের বেঞ্চের পরামর্শ, সরকার বিনামূল্যে খাবার, সাইকেল বা বিদ্যুৎ দেওয়ার বদলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দিক। সুপ্রিম কোর্টের মতে, এভাবে চললে মানুষের কাজ করার মানসিকতা নষ্ট হয়ে যাবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি ব্যাহত হবে। কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার না দিয়ে কেন তুষ্টিকরণের রাজনীতি হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে শীর্ষ আদালত।