ধর্ষণ নাকি ধর্ষণের চেষ্টা? হাইমেনের চোট ও মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ বিচারপতির

ধর্ষণের সংজ্ঞায় ‘সঙ্গম’ বা ‘অনুপ্রবেশ’ (Penetration) কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধুমাত্র বীর্যপাত বা বীর্যের উপস্থিতি ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না যদি না শারীরিক সঙ্গম বা অনুপ্রবেশের অকাট্য প্রমাণ মেলে। এই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ২০০৪ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির কারাদণ্ডের মেয়াদ ৭ বছর থেকে কমিয়ে সাড়ে ৩ বছর করেছে আদালত।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের যুক্তি ঘটনাটি ২০০৪ সালের মে মাসের। ধামতারি জেলার এক যুবতীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে অর্জুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিম্ন আদালত ২০০৫ সালে তাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(১) ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল। অভিযুক্ত হাইকোর্টে আপিল করলে বিচারপতি নরেন্দ্র কুমার ব্যাস মামলাটি খতিয়ে দেখেন। বিচারপতি জানান, মেডিক্যাল রিপোর্টে বীর্যের উপস্থিতি মিললেও এবং হাইমেনে আঘাত থাকলেও, ‘সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশ’-এর কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

ধর্ষণ বনাম ধর্ষণের চেষ্টা বিচারপতি ব্যাস তাঁর রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পুরনো নির্দেশের উল্লেখ করে বলেন, “ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণের জন্য আংশিক হলেও অনুপ্রবেশ বা পেনিট্রেশন আবশ্যিক শর্ত। এই মামলায় নির্যাতিতার বয়ান এবং মেডিক্যাল রিপোর্টে অনুপ্রবেশের বিষয়টি অস্পষ্ট। বীর্যপাত হলেও যদি সঙ্গম না ঘটে, তবে তাকে ধর্ষণ বলা যায় না; এটি বড়জোর ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য হতে পারে।”

সাজা হ্রাস ও বর্তমান পরিস্থিতি আদালত অভিযুক্তকে ধর্ষণের পরিবর্তে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (আইপিসি ধারা ৩৭৬ ও ৫১১) এবং অন্যায়ভাবে আটকে রাখার (ধারা ৩৪২) অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর ফলে তার ৭ বছরের সাজা কমিয়ে ৩ বছর ৬ মাস করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই রায় বর্তমানে আইনি মহলে ব্যাপক চর্চা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।