ভোট দিয়েছেন কি দেননি সেটা বড় কথা নয়, এই দেশ সবার! শপথের পর ‘ইনক্লুসিভ’ বাংলাদেশের ডাক তারেকের

শপথ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণত নতুন সরকারের জন্য ১০০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রথা থাকলেও, তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রককে ১৮০ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিএনপির নেতৃত্বে এই সরকারের মূল লক্ষ্য হবে—শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা।
৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান তাঁর ভাষণে একটি ‘বৈষম্যহীন’ বাংলাদেশের ছবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনি বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কি দেননি, তা বিচার্য নয়। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে এই রাষ্ট্র প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।” সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় চারটি মূল বিষয় রয়েছে—আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ এবং রেলওয়েসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। বিশেষ করে দুর্নীতি দমনে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের বার্তা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশে আর কোনো ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না। দেশের বিদেশ নীতিতেও বড় বদল এনেছেন বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জিয়াউর রহমানের আদর্শ মেনে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। দীর্ঘ অস্থিরতার পর তারেক রহমানের এই ১৮০ দিনের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বাংলাদেশকে কতটা স্থিতিশীল করতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।