উচ্চমাধ্যমিকের পথে রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা! হাসপাতালে বসেই অদম্য জেদে পরীক্ষা দিল ২ ছাত্রী

উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, কিন্তু সেই বাধা দমাতে পারল না দুই ছাত্রীর অদম্য জেদকে। টোটো উলটে গুরুতর জখম হয়েও হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দিল পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের দুই পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

জানা গিয়েছে, রত্নেশ্বরবাটি হাইস্কুলের ৬ জন ছাত্রী একটি টোটোয় চড়ে ঘাটাল বসন্তকুমারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন। রত্নেশ্বরবাটি এলাকায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকা বালিতে চাকা হড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায় টোটোটি। দুর্ঘটনায় চালকসহ ৬ জনই আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। মৌপর্ণা পাল ও তৃষ্ণা মেটে নামে দুই ছাত্রীর চোট অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বাকি ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ওই টোটোচালকই তাঁদের যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মৌপর্ণা ও তৃষ্ণার জন্য হাসপাতালের বেডেই পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। হাতে ব্যান্ডেজ আর শরীরে যন্ত্রণা নিয়েও ঘাবড়ে না গিয়ে তারা নিরুদ্বেগ চিত্তে পরীক্ষা দেয়। মৌপর্ণার মা মধুমিতা পাল জানান, মেয়ের মাথায় ও হাতে গুরুতর চোট লেগেছে, কিন্তু পড়াশোনার ক্ষতি হতে দেয়নি সে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণেই এই বিপদ। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে দুই ছাত্রীর এই লড়াই এখন ঘাটালের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।