‘প্রতীক উরই দলের সবচেয়ে পেয়ারের লোক!’ শতরূপের মন্তব্যে বাম অন্দরে চরম নাটক

সিপিআইএমের অন্দরে প্রতীক-উর রহমানকে ঘিরে চলা নাটকে এবার এন্ট্রি নিলেন শতরূপ ঘোষ। বুধবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে যখন ঠিক হয়ে গিয়েছে যে দলত্যাগী প্রতীককে আর একচুলও গুরুত্ব দেওয়া হবে না, ঠিক তখনই পাল্টা তোপ দেগেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন এই প্রার্থী। দলের অন্দরে ‘লবিবাজি’ এবং ‘ঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার’ যে অভিযোগ প্রতীক তুলেছিলেন, বৃহস্পতিবার তার প্রতিটি পয়েন্টের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলেন শতরূপ ঘোষ। তবে তাঁর আক্রমণের ভঙ্গি ছিল বেশ কিছুটা শ্লেষাত্মক।
শতরূপ সরাসরি কটাক্ষের সুরে বলেন, “প্রতীক-উর সবচেয়ে বেশি পেয়ারের লোক। দলের সবাই ওকে ভালোবাসে। সেই কারণেই এত অল্প বয়সে ওকে বিধানসভা এবং লোকসভায় প্রার্থী করা হয়েছে। আমার তিন বছর আগে প্রতীক রাজ্য কমিটির সদস্য হয়েছে। ও নিজের যোগ্যতায় এই জায়গায় এসেছে।” শতরূপের এই ‘পেয়ারের লোক’ তকমাটি আদতে প্রতীকের তোলা ‘ঘনিষ্ঠদের বাঁচানোর’ অভিযোগের দিকেই পাল্টানো তির বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শতরূপের দাবি, দল প্রতীককে যথেষ্ট সম্মান ও সুযোগ দিয়েছে, তাই লবিবাজির অভিযোগ ধোপে টেকে না।
অন্যদিকে, প্রতীক-উর রহমানও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তাঁর অভিযোগের তিরে বিদ্ধ হয়েছেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। প্রতীকের প্রশ্ন, তাঁর গোপন ইস্তফাপত্র সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করল কে? তিনি বলেন, “দলের ভিতরে কালপ্রিটরা লুকিয়ে আছে। বিমানদার সঙ্গে আমার কী কথা হয়েছে সেটাও বাইরে চলে এল। দলের অন্দরে কোনও গোপনীয়তা নেই।” প্রতীকের দাবি, তিনি সেলিমকে ফোন করলেও উত্তর পাননি। এই কাদা ছোড়াছুড়ি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতীকের সঙ্গে আর কোনও আলোচনার পথে হাঁটা হবে না। ভোটের মুখে তরুণ নেতাদের এই সংঘাত বঙ্গ সিপিএমের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।