“বিজেপি গোর্খাদের সঙ্গে মিথ্যে বলেছে!” ঘাসফুলে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ

উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় ভূমিকম্প। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই বিজেপি শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়াফুল পতাকা হাতে তুলে নিলেন তিনি। দলবদলের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন এই পাহাড়ি নেতা। তাঁর সাফ কথা, “আমার রাজনৈতিক চিন্তার একমাত্র সমাধান এখন দিদিই (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)।”

বিজেপি ছাড়ার কারণ হিসেবে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা সরাসরি ‘জুমলা’ বা মিথ্যে প্রতিশ্রুতির রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছরে দেখেছি, বিজেপি গোর্খাদের সঙ্গে কেবল মিথ্যেই বলেছে। উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র কোনও টাকা পাঠায় না। বিশৃঙ্খল রাজনীতি আমাকে ভিতর থেকে আঘাত দিচ্ছিল। আমি কি আমার ভোটারদের সঙ্গে জুমলা রাজনীতি করব?” তাঁর আরও অভিযোগ, দার্জিলিংয়ের সাংসদ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে হোটেলে ইন্টারলোকেটর রেখে রাজনীতি করছেন, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনও যোগ নেই।

২০২১ নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই ভরাডুবি হয়েছিল তৃণমূলের। কিন্তু বিষ্ণুপ্রসাদের মতো হেভিওয়েট নেতার অন্তর্ভুক্তি পাহাড়ের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঘাসফুল শিবিরকে অনেক বেশি শক্তিশালী করল। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক উত্তরবঙ্গ বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবিতে সরব থাকা বিষ্ণুপ্রসাদের এই দলবদল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। বিষ্ণুপ্রসাদের দাবি, তিনি নিজের ভোটাদের স্বার্থেই এবং পাহাড়ের প্রকৃত উন্নয়নের লক্ষ্যে আশ্রয় নিয়েছেন মমতার ছায়ায়। ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে পদ্ম-দুর্গে এই ফাটল নিশ্চিতভাবেই নতুন লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।