পেনিট্রেশন ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়! পৈশাচিক লালসার আইনি সংজ্ঞায় বড় বদল আদালতের

যৌন লালসার শিকার হওয়া আর আইনি পরিভাষায় ‘ধর্ষণ’ বা ‘Rape’ হিসেবে গণ্য হওয়ার মধ্যে এক সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা টেনে দিল ছত্তিশগড় হাইকোর্ট। ২০০৪ সালের একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় সংশোধন করে আদালত জানিয়েছে, যোনির ওপর পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা বা সঙ্গম ছাড়া বীর্যপাত হওয়াকে ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। আইনি দৃষ্টিতে একে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য করা হবে।

মামলার ইতিহাস ও পুরনো রায়: ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৪ সালের ২১ মে। অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে বাড়িতে একা পেয়ে এক তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৫ সালে ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত।

হাইকোর্টের যুক্তি ও মেডিক্যাল রিপোর্ট: গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার পর্যবেক্ষণে ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বিচারপতি জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণ প্রমাণের জন্য ‘পেনিট্রেশন’ বা পুরুষাঙ্গের প্রবেশ বাধ্যতামূলক। এই মামলার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় আদালতের নজরে আসে:

  • অক্ষত যোনিচ্ছদ: মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল নির্যাতিতার যোনিচ্ছদ (Hymen) অক্ষত ছিল।

  • বয়ানে অসঙ্গতি: নির্যাতিতা প্রথমে জোর করে সঙ্গমের কথা বললেও, পরে বয়ান বদলে জানান যে অভিযুক্ত কেবল গোপনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ ছুঁইয়েছিল।

  • আইনের ধারা: আদালত স্পষ্ট করে যে, সঙ্গম ছাড়া বীর্যপাত ৩৭৬ ধারার আওতায় পড়ে না, বরং তা ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে দণ্ডযোগ্য।

সাজা সংশোধন: আদালত অভিযুক্তের ৭ বছরের সাজা বাতিল করে তা কমিয়ে ৩ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে বাকি সাজা খাটার জন্য আগামী দু’মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায় যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক নতুন তর্কের জন্ম দিল।