২০২৬-এর ভোটে কত আসন পাবে ISF? বড় দাবি করলেন নওশাদ সিদ্দিকি

বাংলার বিধানসভা ভোটের দামামা বাজতেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। আর এবারের নির্বাচনে নিজের দল আইএসএফ (ISF)-কে নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর সাফ দাবি, আসন্ন ভোটে আইএসএফ-এর আসন সংখ্যা এবার ‘ডাবল ডিজিটে’ অর্থাৎ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছবে।
বামেদের সাথেই জোট, ব্রাত্য হুমায়ুন: তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী ভোট যাতে কোনওভাবেই ভাগ না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই সরব নওশাদ। তবে জোটের প্রশ্নে তিনি কেবল বামেদের ওপরেই ভরসা রাখছেন। বিধায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “আমরা শুধু বামেদের সঙ্গেই আলোচনা করছি। হুমায়ুন কবীর কী বলছেন, তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না।” অর্থাৎ, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের সঙ্গে এখনই কোনও সমঝোতার পথে হাঁটছে না আইএসএফ।
আলিমুদ্দিনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও আসন রফা: সম্প্রতি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য দফতরে মহম্মদ সেলিম ও বিমান বসুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন নওশাদ। সূত্রের খবর, আসন সমঝোতার জটিলতা অনেকটাই কেটেছে। তবে সংখ্যার লড়াই এখনও বর্তমান।
-
নওশাদের দাবি: আইএসএফ ৪৫টি আসনের দাবিতে অনড়।
-
সিপিএমের অবস্থান: বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, ২৫টির বেশি আসন ছাড়া কার্যত অসম্ভব।
নমনীয় দুই পক্ষই: বৈঠক শেষে দুই শিবিরের নেতারাই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আসন সংখ্যা নিয়ে আরও কয়েক দফা আলোচনার পর একটি মধ্যস্থতায় পৌঁছানো যাবে। দু’পক্ষই জোট টিকিয়ে রাখতে নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। সিপিএম সূত্রে খবর, বাকি শরিক দলগুলোর (আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক ও সিপিআই) সঙ্গে কথা বলেই নওশাদকে চূড়ান্ত তালিকা দেওয়া হবে।
২০২১-এ নওশাদ ছিলেন ‘একলা চলো’র প্রতীক, কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভায় তাঁর দল ‘কিং মেকার’ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বামেদের সঙ্গে এই রসায়ন শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।