বাংলার স্বপ্নভঙ্গ, রূপকথার জয় জম্মুর! রঞ্জি ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়লেন সামাদরা!

রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য অধ্যায় লিখল জম্মু ও কাশ্মীর। বুধবার সেমিফাইনালে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে প্রথমবার রঞ্জি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল তারা। দীর্ঘ ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আব্দুল সামাদদের এই জয় ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এক নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফাইনালের লড়াইয়ে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শক্তিশালী কর্ণাটক।
আকিব নবির রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স এই ঐতিহাসিক জয়ের আসল কারিগর পেসার আকিব নবি। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি একাই শিকার করেছেন ১৩টি উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পর, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় লক্ষ্মীরতন শুক্লার প্রশিক্ষণাধীন বাংলা। ১২৬ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভনশজ শর্মার ৪৩ ও আব্দুল সামাদের ৩০ রানের ইনিংসে ভর করে অনায়াসেই জয় তুলে নেয় জম্মু।
লড়াই করেও ব্যর্থ বাংলা প্রথম ইনিংসে কিন্তু দাপট ছিল বাংলারই। সুদীপ কুমার ঘরামি ১৪৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও শতরান করে বাংলার একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই নজির গড়লেন তিনি। বল হাতে মহম্মদ শামি ৮ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানের লিডও পায় বাংলা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। আকাশ দীপ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট পেলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ইতিহাসের দোরগোড়ায় জম্মু ২০২৩ সালের পর ফের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল মনোজ তিওয়ারিহীন বাংলার। অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসে ফুটছে জম্মু শিবির। যে দলটিকে কেউ ফেভারিট মনে করেনি, তারাই আজ শিরোপা জয়ের থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে ফাইনালে আকিব নবিরা কি পারবেন প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি ঘরে তুলতে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের ক্রিকেট মহল।