“ডিমোশন দিলে প্রমোশন দেব!” অফিসারদের পাশে দাঁড়িয়ে দিল্লির ‘তুঘলকি’ শাসনকে চ্যালেঞ্জ মমতার

আসন্ন নির্বাচনের আগে সুর চড়িয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কার্যত তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক জনসভা থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেবে। বিহারের উদাহরন টেনে তিনি বলেন, “বিহারে বলছে খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। তাহলে কি গরিব মানুষ এখন শপিং মলে গিয়ে মাছ কিনবে? আমাদের টাটকা মাছ বিক্রেতাদের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।”

নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি’ কটাক্ষ: ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘SIR’ প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা থেকে বেছে বেছে বিজেপি-ঘেঁষা লোকেদের মাইক্রো-অবজার্ভার করে পাঠানো হয়েছে। মমতা বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে মাইক্রো-অবজার্ভাররা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার খেলায় মেতেছে। এটা কি ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন হচ্ছে যে ১৪ তারিখেই পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হলো?” তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচন কমিশনার কি অবসরের পর রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির পদ পেতে চান? কেন একেক রাজ্যে একেক নিয়ম?”

অফিসারদের পাশে দাঁড়িয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ: কমিশনের নির্দেশে যে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে, তাঁদের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁদের ডিমোশন করা হয়েছে, রাজ্য সরকার তাঁদের প্রমোশন দেবে। আধিকারিকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে।” তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার চক্রান্ত আমরা জানি। পেগাসাস দিয়ে নজরদারি চালালেও আমাদের কাছেও সবার ‘ইতিহাস-ভূগোল’ নথিবদ্ধ আছে। আপনারা যদি ৪২০ হন, তবে মনে রাখবেন আমি ৪৪০ ভোল্ট।”

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তোপ: মণিপুর থেকে উন্নাও— একাধিক ইস্যুতে বিজেপির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “বাংলার একটা পটকা ফাটলে এনআইএ (NIA) আসে, কিন্তু উন্নাও বা মণিপুরের সময় সবাই চুপ। বাংলাদেশে কী হচ্ছে বা নেপাল নিয়ে আমরা চিন্তিত, কিন্তু আপনারা শুধু অনুপ্রবেশকারী খোঁজেন। বিহারে কতজন বাংলাদেশি পেয়েছেন?” তাঁর সাফ কথা, বাংলা কখনও মাথা নত করবে না এবং সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে তার ফল ভুগতে হবে।