তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদীর! দূত হয়ে ঢাকায় ওম বিড়লা, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পালাবদলের পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ দূত হিসেবে ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি তারেক রহমানের হাতে মোদীর পাঠানো একটি শুভেচ্ছা এবং আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।
মোদীর আমন্ত্রণ ও শুভেচ্ছা বার্তা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর চিঠিতে তারেক রহমানকে নির্বাচনে বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানসহ সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মোদী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশ— দুই নিকট প্রতিবেশী দেশই প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে একে অপরের উন্নয়নের অনুঘটক হতে পারে।
ওম বিড়লার উপস্থিতি ও বার্তা: শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে ওম বিড়লা জানান, ভারত সবসময় একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “ভারতবাসীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আমি উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছি এবং পুনরায় আশ্বস্ত করেছি যে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ওম বিড়লা পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে এই ঐতিহাসিক মৈত্রীর কথা তুলে ধরেন।
কূটনৈতিক তাৎপর্য: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। ৩৬ বছর পর বাংলাদেশে কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে বিশেষ আগ্রহী নয়াদিল্লি।