“কবে দেশে ফিরব, বলতে পারছি না”-বম্বে হাইকোর্টে যা বললেন বিজয় মালিয়া

দেশ ছেড়ে পালানো কিংফিশার কর্তা বিজয় মালিয়া কি তবে সত্যিই ফিরতে চান না, নাকি আইনি জালে তিনি প্রকৃতই বন্দি? বুধবার বম্বে হাইকোর্টে নিজের আইনজীবী মারফত এক বিস্ফোরক বয়ান পেশ করলেন এই পলাতক শিল্পপতি। মালিয়ার সাফ দাবি, এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ছেড়ে বেরোনোর কোনও অনুমতি তাঁর নেই। ফলে কবে তিনি ভারতে ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত করে বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
আদালতে মালিয়ার সাফাই: পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মালিয়া। প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি গৌতম অঙ্খড়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল, যদি মালিয়া চান তাঁর আবেদনটি আদালত বিবেচনা করুক, তবে তাঁকে সশরীরে ভারতে ফিরতে হবে। এর প্রেক্ষিতেই মালিয়া জানান:
-
২০১৬ সালে ভারত সরকার তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় বর্তমানে তাঁর কাছে কোনও বৈধ ভ্রমণ নথি নেই।
-
ব্রিটিশ আদালত তাঁর দেশত্যাগের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।
-
আন্তর্জাতিক কোনও ট্র্যাভেল ডকুমেন্টের জন্য আবেদন করার অধিকারও তাঁর নেই।
সরকারের পাল্টা তোপ: মালিয়ার এই ‘অজুহাত’ শুনতে নারাজ কেন্দ্র। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে সওয়াল করেন, “মালিয়া যদি সত্যিই ভারতে ফিরতে চান, তবে সরকার তাঁকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি দিতে প্রস্তুত। কেউ যদি আইন ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে পালায়, তবে আইন তার নিজের পথেই চলবে।”
আদালতের কড়া অবস্থান: বিজয় মালিয়ার কেবল মৌখিক বিবৃতিতে সন্তুষ্ট নয় বম্বে হাইকোর্ট। বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “আদালত এর আগে যথেষ্ট সময় দিয়েছে। শুধু বয়ান দিলে হবে না, হলফনামা দাখিল করতে হবে।” আদালত আগামী ১১ মার্চের মধ্যে মালিয়াকে হলফনামা জমা দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ এজেন্সিকে গ্যারান্টি দিয়েছে যে মালিয়া বা নীরব মোদীদের জন্য তিহাড় জেলে সবরকম সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন দেখার, ১১ মার্চের হলফনামায় নতুন কী মোড় নেয় এই হাই-প্রোফাইল মামলা।