নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে বিষাক্ত জল! অসুস্থ শয়ে শয়ে বাসিন্দা, তদন্তে নামল এনকেডিএ

মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার পর এবার খাস কলকাতায় পানীয় জল নিয়ে বড়সড় আতঙ্ক। নিউটাউনের অভিজাত সাপুরজি সুখবৃষ্টি আবাসনের কয়েকশো বাসিন্দা দূষিত জল পান করে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জ্বর, বমি আর পেটের সংক্রমণে জেরবার শিশু থেকে বৃদ্ধ— সকলেই। অভিযোগের আঙুল আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষের দিকে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পরিষদ (NKDA)।
তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য: আবাসনের ই-ব্লকের বাসিন্দাদের দাবি, গত তিন বছর ধরে পানীয় জলের পাইপলাইন বা ওভারহেড রিজার্ভার— কিছুই পরিষ্কার করেনি কর্তৃপক্ষ। সুধীর মণ্ডল নামে এক বাসিন্দা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে জল থেকে পচা গন্ধ বেরোচ্ছিল, জলের রঙও হয়ে গিয়েছিল হলদেটে। এই বিষাক্ত জল খেয়েই তাঁর দুই মেয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেড় বছরের শিশু থেকে শুরু করে বহু প্রবীণ নাগরিক এখন শয্যাশায়ী। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও আবাসন কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: খবর পাওয়ামাত্রই মঙ্গলবার ওই আবাসনে বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প বসিয়েছে এনকেডিএ। সংগৃহীত করা হয়েছে জলের নমুনা। এনকেডিএ-র এক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সরকারি সরবরাহ করা জলে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটি আবাসনের অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন বা স্টোরেজ ট্যাঙ্কে।” যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ১০০টিরও বেশি ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বিশাল ক্ষমতার রিজার্ভারগুলি জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
জাতীয় স্তরে জল-বিপর্যয়: দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ইদানীং জলদূষণ প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। গত ডিসেম্বরে ইন্দোরে দূষিত জলের জেরে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সম্প্রতি হরিয়ানার পালওয়ালে ব্যাকটেরিয়াযুক্ত জলের কারণে ১৫ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের এই ঘটনা সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে জনমানসে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আবাসনের ই-ব্লকের বাসিন্দাদের বিকল্প পরিস্রুত পানীয় জল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।