দিনমজুরের অ্যাকাউন্টে ১৭ কোটির লেনদেন! আয়কর দফতরের নোটিস দেখে চক্ষু চড়কগাছ গরিব শ্রমিকের

দিন আনি দিন খাই অবস্থা, মাথা গোঁজার সম্বল বলতে শুধু একটি ভাঙাচোরা কাঁচা বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ির মালিকের নামেই আয়কর দফতর পাঠাল ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার নোটিস! উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলার সন্তনগরের বাসিন্দা শিবধনির জীবনে নেমে এসেছে এমনই পাহাড়প্রমাণ বিপর্যয়। ব্যাটারি কারখানায় সামান্য শ্রমিকের কাজ করা শিবধনি এখন বুঝে উঠতে পারছেন না, কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলো।
বিশ্বাসের অমর্যাদা ও মালিকের চাল: শিবধনি জানান, সোনভদ্রর ঘোরাওয়ালে একটি ব্যাটারি শপে লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করতেন তিনি। প্রায় ৮ বছর সেখানে কাজ করার সময় মালিক তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তাঁর বেতন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সেই বিশ্বাসেই শিবধনি কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং উৎকর্ষ ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলেন। কিন্তু অভিযোগ, বেতন দেওয়ার নাম করে তাঁর অজান্তেই সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার কারবার চালিয়েছেন মালিক।
মন্দার দোহাই দিয়ে বিদায়, তারপরই বিপদ: আট বছর পর হঠাৎই ব্যবসায় মন্দার কথা বলে শিবধনিকে কাজ থেকে বের করে দেন মালিক। দিশেহারা দিনমজুর কাজের সন্ধানে মুম্বই চলে যান। গত ৬ মাস ধরে তাঁর বাড়িতে আয়কর দফতরের নোটিস আসছিল। প্রথমবার যখন তিনি সেই নোটিস নিয়ে তাঁর প্রাক্তন মালিকের কাছে যান, মালিক সেটি নিজের কাছে রেখে দেন এবং সব ‘দেখে নেওয়ার’ আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
পুলিশ ও আয়কর দফতরের তৎপরতা: সম্প্রতি আয়কর দফতরের আধিকারিকরা সশরীরে শিবধনির বাড়িতে পৌঁছে জানান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ১২ হাজার ২০৭ টাকার লেনদেন হয়েছে! এই বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকির দায় এখন শিবধনির কাঁধেই। কান্নায় ভেঙে পড়া শিবধনি জেলার এসপি-র কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন। মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা রোজগার করা এই শ্রমিকের এখন দিন কাটছে আদালত আর থানার চক্কর কেটে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে।