রক্তের স্বাদ পেয়েছে নকভি-মুনির জুটি! জেলের ভেতর ইমরান খুনের ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস করলেন আলীমা খান

পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সীমা ছাড়িয়ে এবার তাঁকে সশরীরে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তাঁর বোনেরা। উজ়মা খান এবং আলীমা খান সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, ইমরান নিজে তাঁদের জানিয়েছেন, “এরা আমাকে মেরেই ফেলবে, সেই ছক কষা হয়ে গিয়েছে।” এই ষড়যন্ত্রের মূল পান্ডা হিসেবে তাঁরা সরাসরি আঙুল তুলেছেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভি এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের দিকে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ইমরান খান ইতিমধ্যেই তাঁর দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর চোখে ‘রেটিনাল ভেন অকালশন’ ধরা পড়েছে, যা সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাঁকে। ইমরানের বোন নৌরীন নিয়াজির অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ গাফিলতি নয়, বরং আসিম মুনিরের পরিকল্পিত ‘নৃশংসতা’। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের বিশ্বস্ত চিকিৎসক ডক্টর আসিম বা ডক্টর ফয়সলকে জেলে ঢোকার অনুমতি চাওয়া হলেও পাকিস্তান সরকার তা বারবার প্রত্যাখ্যান করছে। এমনকি পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নামও খারিজ করে দিচ্ছে শাহবাজ শরিফের প্রশাসন।
আলীমা খান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “মহসিন নকভি আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। ওঁরা রক্তের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু লিখে রাখুন, ইমরানের যদি কিছু হয়, আমরাও কাউকে ছাড়ব না।” এই পৈশাচিক পরিস্থিতির খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। সুনীল গাওস্কর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দের মতো কিংবদন্তিরা ইতিমধ্যেই ইমরানের মানবিক অধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টও এখন শাহবাজ সরকারের কাছে জবাব তলব করেছে। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক ক্রিকেটের এই মহানায়ক কি শেষ পর্যন্ত রাজনীতির এই নোংরা খেলার বলি হবেন?