পাশে মেয়ের লাশ, নিশ্চিন্তে ঘুমোলো ধর্ষক প্রতিবেশী! অন্ধ্রপ্রদেশের মর্মান্তিক ঘটনায় ফুটছে জনতা

অন্ধ্রপ্রদেশের আন্নামায়া জেলার মদনপল্লে এলাকায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা অপরাধ, যা হার মানাবে যে কোনো বীভৎস কল্পনাকেও। মাত্র সাত বছর বয়সী, দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার পর জলের ড্রামে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম কুলবর্ধন (৩০), যে এলাকায় মাদকাসক্ত এবং অপরাধপ্রবণ হিসেবেই পরিচিত। গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্তের ঘর থেকেই উদ্ধার করে বাচ্চাটির নিথর দেহ।
ঘটনার পৈশাচিকতা এখানেই শেষ নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরীকে প্রথমে পাশবিক অত্যাচার করে কুলবর্ধন। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে তাকে জীবন্ত অবস্থায় জলের ড্রামের ভিতর চুবিয়ে দেয়। পৈশাচিকতার চূড়ান্ত উদাহরণ দিয়ে, সারা রাত ঘরের ভিতর শিশুর লাশ রেখেই শান্তিতে ঘুমিয়েছিল ওই ঘাতক। সোমবার রাতে পুলিশ যখন তল্লাশিতে যায়, তখন জানলা দিয়ে অভিযুক্তকে ঘুমোতে দেখে তারা ফিরে এসেছিল। কিন্তু পরদিন সকালে সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় ড্রামের ভেতর পড়ে রয়েছে ওই শিশুটির মৃতদেহ।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে জনরোষ। মদনপল্লে-চেন্নাই মহাসড়ক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোনোক্রমে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।