আকিব নবির ম্যাজিক, ৯৯ রানে শেষ অভিমন্যুরা; কাশ্মীরি দাপটে রঞ্জি থেকে বিদায় নিল বাংলা!

কল্যাণীর বাইশ গজে বুধবার রচিত হলো এক নয়া ইতিহাস। ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল বাংলাকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে পৌঁছে গেল জম্মু-কাশ্মীর। প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও বাংলার এমন হার ক্রিকেটপ্রেমীদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বিশেষ করে মহম্মদ শামির মতো তারকা বোলারের ৮ উইকেটের অবিশ্বাস্য স্পেল এবং সুদীপ ঘরামির লড়াকু শতরান সত্ত্বেও খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হলো অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। আরও একবার ট্রফির খুব কাছ থেকে স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলার।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রান তুলে ২৬ রানের লিড নিয়েছিল বাংলা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ১২৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে জম্মু-কাশ্মীর শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়লেও বংশজ শর্মা (৪৩*) এবং আব্দুল সামাদের (৩০*) অবিচল ব্যাটিং দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। ৩৪.৪ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় পরশ ডোগরার দল।
পুরো ম্যাচে ৯টি উইকেট দখল করার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ৪২ রান করে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি। অন্যদিকে, মহম্মদ শামি প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিতে হলো দলকে। আকাশদীপ শুরুতে অধিনায়ক পরশ ডোগরাকে ফিরিয়ে আশা জাগালেও বাকি কাজটা সারতে পারেননি বাংলার বোলাররা।
সৈয়দ মুস্তাক আলি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে ব্যর্থতার পর রঞ্জি ট্রফি ছিল বাংলার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ। লিগ পর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেমিফাইনালের এই হার বাংলার ক্রিকেটে হতাশা আরও বাড়াল। অন্যদিকে, প্রথমবার সেমিফাইনালে নেমেই বাজিমাত করল জম্মু-কাশ্মীর। এখন তাদের সামনে কর্ণাটকের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, যারা অন্য সেমিফাইনালে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে বিশাল লিড নিয়ে ফাইনালের দোরগোড়ায়। ভূ-স্বর্গের রূপকথা কি ফাইনালেও বজায় থাকবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব।