‘আমি এখানে মন্ত্রী নই, মহাপ্রভুর ভক্ত’; মায়াপুরে দাঁড়িয়ে মোদির ‘হরে কৃষ্ণ’ বার্তা শোনালেন অমিত শাহ!

নদিয়ার মায়াপুরে বুধবার এক অন্য মেজাজে ধরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনীতির চেনা আঙিনা থেকে দূরে, ইস্কন মন্দিরে ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে ‘মহাপ্রভুর অনন্য ভক্ত’ হিসেবে তুলে ধরলেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ আমি এখানে মন্ত্রী হিসেবে আসিনি। চৈতন্য মহাপ্রভুর এক সামান্য ভক্ত হিসেবে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি।”
বক্তৃতার শুরুতেই শাহ উপস্থিত সাধু-সন্ন্যাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি যখন মায়াপুর যাওয়ার কথা জানালাম, তিনি মন থেকে আপনাদের সকলকে ‘হরে কৃষ্ণ’ জানিয়েছেন।” শাহর এই মন্তব্যের পরই গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ জয়ধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে।
সনাতন ধর্মের বিশ্বজনীন আবেদন নিয়ে শাহ এদিন বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভু যে ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তাকে আধুনিক করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ও ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদ। ইস্কনের প্রশংসা করে তিনি জানান, বিশ্বের এমন কোনো ভাষা নেই যেখানে ইস্কনের সৌজন্যে গীতা পৌঁছায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত যখন ‘বিকশিত রাষ্ট্র’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে, তখন সনাতন ধর্মের বার্তা সারা বিশ্বে পথপ্রদর্শক হবে।
বক্তৃতায় ধর্মের পাশাপাশি আধুনিকতার মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম নিয়ে বাংলার মতুয়া ভোটব্যাঙ্কেও সুকৌশলে বার্তা দেন শাহ। তাঁর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রশাসনিক প্রোটোকল সরিয়ে রেখে শাহর এই ‘ভক্ত’ অবতার আসন্ন নির্বাচনের আগে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।