‘শয়তান, কুচক্রী!’ একদিকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, অন্যদিকে জামাইকে প্রার্থী হওয়ার টোপ; তৃণমূলকে তুলোধোনা হুমায়ুনের

একদিকে পরিবারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার তৎপরতা, অন্যদিকে জামাইকে বিধানসভার প্রার্থী করার লোভনীয় প্রস্তাব— শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এমনই দ্বিচারিতার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ভরতপুরের বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করছে নবান্ন।

সম্প্রতি একটি পুরনো মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে হুমায়ুনের মেয়ে ও জামাইয়ের শ্বশুরবাড়ির বিপুল সম্পত্তি ক্রোক করেছে পুলিশ। কিন্তু এরই মধ্যে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে মালদার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তাঁর জামাইকে লালগোলা থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিধায়কের ভাষায়, “একদিকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে, অন্যদিকে আমার বেয়াইয়ের কাছে লোক পাঠিয়ে জামাইকে প্রার্থী করতে চাইছে। এদের মতো শয়তান আর কুচক্রী মানুষ আর বাংলায় নেই।” হুমায়ুন কবীরের মতে, তিনি নিজে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করার পর থেকেই পুলিশ তাঁর মেয়ের বাড়ির সম্পত্তির মাপজোক শুরু করেছিল।

ঝামেলার এখানেই শেষ নয়। জামাইয়ের পর এবার খাঁড়া নেমে এসেছে হুমায়ুনের স্ত্রীর ওপর। রেজিনগরে জলাজমি বুজিয়ে বাড়ি তৈরির অভিযোগে তাঁর স্ত্রী মীরা সুলতানাকে সাত দিনের মধ্যে জবাব তলব করে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে ভূমি সংস্কার দফতর। একের পর এক নোটিস এবং আইনি চাপে কার্যত কোণঠাসা হুমায়ুন শিবির। তবে সাসপেন্ডেড এই বিধায়ক হার মানতে নারাজ। ভোটের মুখে তিনি নতুন করে সমীকরণ সাজাচ্ছেন।

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর এবার ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলামকে নিয়ে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আরাবুল তাঁর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন এবং বড় লড়াই লড়ার স্বপ্ন দেখছেন। যদিও আরাবুলকে আগে তাঁর দলে যোগ দেওয়ার শর্ত দিয়েছেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতেই হুমায়ুন এই রণকৌশল অবলম্বন করছেন। একদিকে পরিবারের ওপর আক্রমণ আর অন্যদিকে রাজনীতির দাবার বোড়ে সাজানো— সব মিলিয়ে মিনাখাঁ থেকে রেজিনগর, বঙ্গ রাজনীতি এখন হুমায়ুন-ঝড়ে উত্তপ্ত।