‘ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন অফিসাররা!’ সুপ্রিম কোর্টে ইডির বিস্ফোরক দাবি—Z+ নিরাপত্তা ব্যবহার করে তল্লাশি থামিয়েছিলেন মমতা

সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর অফিসে ইডির তল্লাশি এবং সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে হাড়হিম করা দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডির অভিযোগ, গত ৮ জানুয়ারি তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ‘Z+’ স্তরের নিরাপত্তা বলয়কে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ করে ফেলেছিলেন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, সেদিন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইডি আধিকারিকরা ‘আতঙ্কিত’ (Terrorized) হয়ে পড়েছিলেন।

নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস লুঠের অভিযোগ: বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে ইডি জানিয়েছে, কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ, প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওয়ালা মারফত গোয়া হয়ে আইপ্যাকে ঢুকেছে—এমন তথ্য পেতেই ওই অভিযান শুরু হয়। কিন্তু তল্লাশি চলাকালীনই সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে কম্পিউটারের ব্যাক-আপ ডেটা নেওয়া থামিয়ে দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইস সঙ্গে করে নিয়ে চলে যান। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজও সরিয়ে ফেলার অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

মৌলিক অধিকার ও ক্ষমতার অপব্যবহার: আদালতে ইডি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ধস্তাধস্তি বা বড় কোনো অশান্তি এড়াতেই তারা সেদিন তল্লাশি থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল যে, ইডি আধিকারিকরাই তাঁকে নথি নিয়ে যেতে দিয়েছিলেন—তবে এদিন সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে ইডি। তাদের পাল্টা অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সংস্থার স্বাধীনভাবে কাজ করার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার জন্য সিবিআই তদন্ত দাবি করে ইডির আইনজীবী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এই অনাচার বন্ধ হওয়া দরকার।”