প্রতীক উর-এর পথে কি এবার সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়? ‘অন্য দল থেকে ফোন এসেছিল’—তরুণ বাম নেতার দাবিতে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে সবথেকে বড় জল্পনা এখন সিপিএমের তরুণ তুর্কিদের ঘিরে। প্রাক্তন এসএফআই নেতা প্রতীক উর রহমান দল ছাড়ার চিঠি দিতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই বিতর্ক থিতু হওয়ার আগেই এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন সিপিএমের আর এক জনপ্রিয় তরুণ মুখ তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ইঙ্গিত দিলেন, তাঁকে অন্য শিবিরের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে এবং আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সায়নের বিস্ফোরক দাবি: সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সিপিএমের তরুণ নেতৃত্বকে ভাঙিয়ে অন্য শিবিরে নিয়ে যাওয়ার এক গভীর পরিকল্পনা চলছে। তাঁর কথায়, “একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আমার কাছে ফোন এসেছিল। আমাকে তাঁদের সঙ্গে বসে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে।” তবে সায়ন এখনই দল ছাড়ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের তরুণ ব্রিগেডের ওপর বড়সড় থাবা বসাতে চাইছে অন্য শক্তি। সায়নের এই মন্তব্য সরাসরি শাসক শিবিরের দিকেই আঙুল তুলছে বলে মত অনেকের।

প্রতীক ও সৃজন বিতর্ক: প্রতীক উর রহমান ইতিমধ্যেই মহম্মদ সেলিমকে চিঠি দিয়ে নিজের ইস্তফার কথা জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রতীককে ডায়মন্ড হারবার বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনো কেন্দ্র থেকে ঘাসফুলের টিকিটে প্রার্থী করা হতে পারে। এই আবহেই সৃজন ভট্টাচার্যকে নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। তবে সৃজন নিজে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রতীক উর নিজে প্রকাশ্যে দল ছাড়া নিয়ে কিছু বলেননি। ওঁর কোনো সমস্যা থাকলে তা দলের ভেতরেই আলোচনা হবে। বাইরের জল্পনাকে আমি মান্যতা দিচ্ছি না।”

চাপে সিপিএম নেতৃত্ব: তরুণ নেতাদের একের পর এক অস্বস্তি এবং সায়নের এই ‘ফোন কল’ বিতর্ক সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বকে রীতিমতো ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন ২০২৬-এর নির্বাচনে বামেরা কামব্যাক করার স্বপ্ন দেখছে, তখন তরুণ প্রজন্মের নেতাদের এমন মোহভঙ্গ বা ভাঙানোর চেষ্টা লাল শিবিরের জন্য বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিমান বসু থেকে সেলিম—প্রবীণ নেতারা বিষয়টিকে ‘অভ্যন্তরীণ’ বললেও, সায়নের এই বিস্ফোরণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে লড়াই এবার কাস্তে-হাতুড়ি বনাম ফোনের ওপার থেকে আসা প্রস্তাবের।