বিয়ের পরেই শ্রীঘর, অবশেষে মুশকিল আসান CAA! মাথাভাঙার গৃহবধূর জেলমুক্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য

বিয়ের ফুল শুকোনোর আগেই হাতে উঠেছিল হাতকড়া। অপরাধ? বৈধ নথিপত্র ছাড়াই কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাসের কারাবাসের পর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (CAA)-র হাত ধরেই অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখলেন কোচবিহারের মাথাভাঙার গৃহবধূ জবা রানি সরকার। সিএএ-তে আবেদন জানানোর পর জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ থেকে জামিন মেলায় বুধবার ঘরে ফিরলেন তিনি।

শৈশব থেকে জীবনযুদ্ধ: জবা রানির আদি বাড়ি বাংলাদেশের লালমনিরহাটে। তিনি জানান, ওপারে হিন্দু মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তাঁর বাবা মাত্র ৬ বছর বয়সেই তাঁকে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে জেঠুর বাড়িতে রেখে যান। সেখানেই বড় হয়ে ওঠা এবং ২০২৪ সালে মাথাভাঙার শীতলকুচির দেবাশিসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু সুখের সংসারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশি তদন্ত। এলাকার কিছু মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে জবা ও তাঁর স্বামী দুজনেই গ্রেফতার হন। স্বামী জামিন পেলেও জবাকে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার সংশোধনাগারে দিন কাটাতে হয়।

মুক্তি ও রাজনৈতিক বিতর্ক: স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া স্বামী দেবাশিস সিএএ পোর্টালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানান। সেই আবেদনের নথি কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে জমা দেওয়া হলে আদালত জবার জামিন মঞ্জুর করে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে কোচবিহারে। বিজেপি নেতা বরেন চন্দ্র বর্মন দাবি করেছেন, “এই ঘটনাই প্রমাণ করে সিএএ শরণার্থীদের জন্য রক্ষাকবচ।” অন্যদিকে, তৃণমূল বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়া বলে দায় সেরেছে। আপাতত আইনি লড়াই চললেও, ৬ মাস পর স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরতে পেরে স্বস্তিতে জবা।