স্মার্টফোন কি আপনার নেশা? সারাদিন ‘ডুম স্ক্রলিং’ করে অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ!

“নেই কাজ তো খই ভাজ”—পুরনো এই প্রবাদটি বর্তমানে বদলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে “নেই কাজ তো ফোন ঘাঁট”-এ। অবসর পেলেই আমাদের হাত চলে যায় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। কখনও অপ্রয়োজনে বারবার ফ্রিজ খুলে দেখার মতো, আবার কখনও কেবল সময় কাটাতে আমরা বুঁদ হয়ে থাকি ‘ডুম স্ক্রলিং’-এ। কিন্তু এই অভ্যাস কি আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে? উত্তেজনাকর শিরোনাম আর অন্তহীন নিউজ ফিডের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাওয়া আটকাতে আপনার জন্য রইল কিছু কার্যকরী সমাধান।

বেডরুম হোক ‘ফোন ফ্রি জোন’: ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোনটি নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। বালিশের নিচে বা পাশের টেবিলে ফোন রাখা মানেই মাঝরাতে স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠলে আপনার হাত সেদিকে যাবেই। প্রয়োজনে ফোনটি পাশের ঘরে রাখুন। সকালে ঘুম ভাঙানোর জন্য ফোনের অ্যালার্মের বদলে একটি পুরনো দিনের টেবিল ঘড়ি ব্যবহার শুরু করুন। নিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ডিজিটাল কার্ফু’ জারি করুন।

অ্যাপ ডিলিট নয়, অভ্যাস বদলান: অনেকেই ভাবেন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ডিলিট করলেই সমস্যার সমাধান হবে। আসলে একঘেয়েমি বা একাকীত্ব থেকেই আমরা ফোনের আশ্রয় নিই। বাসের লাইন হোক বা রেস্তোরাঁয় খাবারের অপেক্ষা—পকেট থেকে ফোন বের করার বদলে একটি ছোট গল্পের বই বা পকেটবই সাথে রাখুন। চারপাশের মানুষ বা প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করার অভ্যাস তৈরি করুন, যা একজন সাহিত্যিকের মতো আপনার চিন্তাশক্তি বাড়াবে।

স্ক্রিনের মোহভঙ্গ করুন: রঙিন এবং ঝকঝকে ডিসপ্লে আমাদের মস্তিষ্ককে ডোপামিন দেয়, যা আসক্তি বাড়ায়। ফোনের ডিসপ্লে সেটিংসে গিয়ে ‘গ্রেস্কেল’ (Grayscale) মোড অন করে দিন। আপনার প্রিয় রঙিন প্রোফাইলটি যখন ২০০৩ সালের সাদাকালো সরকারি ওয়েবসাইটের মতো দেখাবে, তখন ফোন দেখার আকর্ষণ আপনাআপনি কমে যাবে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।

অফলাইন শখ ফিরিয়ে আনুন: ভার্চুয়াল জগতের বাইরেও একটি সুন্দর পৃথিবী আছে। ছোটবেলার সেই গান গাওয়া, ছবি আঁকা, ডায়েরি লেখা বা স্রেফ বাগান করার অভ্যাসগুলো আবার ঝালিয়ে নিন। খাওয়ার টেবিল বা বাথরুমকে কঠোরভাবে ‘নো ফোন জোন’ হিসেবে ঘোষণা করুন। মনে রাখবেন, ফোন আপনার জীবনের অংশ হওয়া উচিত, পুরো জীবন নয়।