‘শান্তিনিকেতনে’ মুন্নাভাই এমবিবিএস! ‘ভুয়ো’ রোগী দেখিয়ে পিজি কোর্সের ছাড়পত্র পাওয়ার চেষ্টা, স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্ণধার হলেন মলয় পিঠ ৷ অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিনি ৷ তাঁর নাম জড়িয়েছে গরুপাচার মামলায় ৷ Santiniketan Medical College শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তরে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের (নিজস্ব ছবি) author img By ETV Bharat Bangla Team Published : February 18, 2026 at 2:55 PM IST 3 Min Read Choose ETV Bharat বোলপুর, 18 ফেব্রুয়ারি: ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের পরিদর্শনের সময় বেডে ভুয়ো রোগী শুইয়ে রাখা হয়েছিল মেডিক্যাল কলেজে ! শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সম্পর্কে এমনই তথ্য উঠে এল কলকাতা হাইকোর্টে ৷ এজলাসে বসে যা শুনে বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস নাকি’ বলেও মন্তব্য করেন ৷ এমনকী, স্নাতকোত্তর কোর্স (পিজি) চালুর ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি । পাশাপাশি, তিনদিনের মধ্যে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-কে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে পরিদর্শনের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি মিত্র । যদিও, এই প্রসঙ্গে শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্ণধার মলয় পিঠ বলেন, “এখনও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাইনি ৷ তবে এটুকুই বলব একটা ভালো কিছু করতে গিয়েছিলাম ৷ এই জেলার সবার ভালো হতো ৷ মাত্র পাঁচ বছরে আমরা যা করেছি, বাকি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় নেই ৷ পরবর্তীতে ফের চেষ্টা করব পিজি কোর্স চালু করার ।” Santiniketan Medical College এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্ণধার মলয় পিঠ (নিজস্ব ছবি) 2021 সালে বোলপুরের মুলুকে তৈরি হয়েছিল বেসরকারি শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ৷ এর কর্ণধার হলেন মলয় পিঠ ৷ এই মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তরে 16টি বিষয়ের উপর পঠন-পাঠন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ৷ সেই মতো ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-এর অনুমতি চাওয়া হয় ৷ কিন্তু, মেলেনি অনুমতি । কেন অনুমতি দেওয়া হল না? 2025 সালে এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । হাইকোর্টের বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন স্পষ্ট জানায়, 16টি বিভাগে স্নাতকোত্তরে কোর্স চালু করার মতো কোনও পরিকাঠামো নেই শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের । মাত্র পাঁচটি বিভাগেই স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করতে নূন্যতম 15 জন অধ্যাপক ও চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় । আর সেই জায়গায় এনএমসি-র প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে গিয়ে মাত্র তিনজন অধ্যাপক ও চিকিৎসকে দেখে ছিলেন ৷ Santiniketan Medical College শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (নিজস্ব ছবি) শুধু তাই নয়, এনএমসি আদালতে দেওয়া হলফনামায় জানায়, হাসপাতালের বেডে ‘ভুয়ো’ রোগী শুইয়ে রাখা হয়েছিল ৷ রোগীর কী হয়েছে, সেই সংক্রান্ত ‘কেস হিস্ট্রি’ ছিল না ৷ আদালতে এই অভিযোগের পরেই বিচারপতি বলে ওঠেন, ‘এ তো পুরো মুন্নাভাই এমবিবিএস’। তারপরেই বিচারপতি মিত্র স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দেন । পাশাপাশি ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের প্রতিনিধি দলকে ফের পরিদর্শনের নির্দেশ দেন ৷ আর এরপরে শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এই কাণ্ডে রীতিমতো নিন্দার ঝড় উঠেছে । স্বাস্থ্য, চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কীভাবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়া কোর্স চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নই উঠছে ৷ শুরু হয়ে গিয়েছিল ওই মেডিক্যাল কলেজে অফ লাইনে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়াও ৷ Calcutta High Court কলকাতা হাইকোর্ট (নিজস্ব ছবি) উল্লেখ্য, গরুপাচার ও আর্থিক তছরুপের মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসাবে নাম উঠে এসেছিল এই শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্ণধার মলয় পিঠের ৷ তাঁকে একাধিকবার কলকাতা ও দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল ইডি ও সিবিআই । এমনকি, শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ মলয় পিঠের শান্তিনিকেতন পলিটেকনিক কলেজেও হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ও সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-এর অফিসারেরা ৷

বোলপুরের শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যেন বাস্তবের ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ চিত্রনাট্য! ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (NMC) পরিদর্শনের সময় বেডে ‘ভুয়ো’ রোগী শুইয়ে রেখে স্নাতকোত্তর (PG) কোর্স চালুর অনুমতি পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠল এই বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এ তো পুরো মুন্নাভাই এমবিবিএস নাকি!” ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ওই মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তৈরি হওয়া এই মেডিক্যাল কলেজের কর্ণধার হলেন মলয় পিঠ, যিনি গরু পাচার মামলায় জেলবন্দি তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এনএমসি আদালতে জানিয়েছে, ১৬টি বিষয়ে পঠন-পাঠন শুরুর দাবি করলেও আদতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোই নেই সেখানে। যেখানে ১৫ জন অধ্যাপক থাকা বাধ্যতামূলক, সেখানে ছিলেন মাত্র ৩ জন। এমনকি বেডে শোয়ানো রোগীদের কোনও ‘কেস হিস্ট্রি’ পর্যন্ত ছিল না। এই জালিয়াতি সামনে আসতেই বিচারপতির নির্দেশ, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে ফের পরিদর্শন করতে হবে কমিশনকে। এই ঘটনায় বীরভূমের স্বাস্থ্য মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।