তদন্ত থামিয়ে সিসিটিভি গায়েব? ‘বাংলায় অনাচার চলছে’, সিবিআই তদন্ত চেয়ে শীর্ষ আদালতে সরব ইডি

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC-এর অফিসে তল্লাশিকে কেন্দ্র করে এবার সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজের ‘Z+’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয়কে ব্যবহার করে তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং আধিকারিকদের রীতিমতো ‘আতঙ্কিত’ করে তুলেছেন। এই ঘটনায় এবার সিবিআই (CBI) তদন্তের আর্জি জানিয়েছে ইডি।
গত ৮ জানুয়ারি সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন হঠাৎই সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডি-র দাবি, তিনি আসার পর কম্পিউটারের ব্যাক-আপ নেওয়া বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস সরিয়ে ফেলা হয়। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজও গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সংস্থা। আদালতে ইডি-র আইনজীবী জানান, “আমাদের আধিকারিকরা সেদিনের পরিস্থিতিতে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে হাতাহাতি এড়াতে তাঁরা তল্লাশি থামাতে বাধ্য হন।”
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে ইডি আধিকারিকরাই স্বেচ্ছায় মুখ্যমন্ত্রীকে নথি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। বুধবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রা ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে ইডি জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ইডি-র অভিযোগ, প্রায় ২০ কোটি টাকার কয়লা পাচারের কালো টাকা হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গোয়ায় সাদা করা হয়েছিল, যার যোগসূত্র রয়েছে I-PAC-এর সঙ্গে। বাংলায় এই ‘অনাচার’ বন্ধ করতে এখন সিবিআই-এর হস্তক্ষেপ চাইছে দিল্লি। পালটা তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে নির্বাচনী রণকৌশল চুরি করতেই রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল।