অজিত পওয়ারের বিমান বিভ্রাটে ককপিটের শেষ বার্তা! তদন্তে এবার বিদেশি ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ ডাক

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া ফেলা অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে এবার আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিচ্ছে ভারত। গত ২৮ জানুয়ারি মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়েছিল অজিত পওয়ারের লিয়ারজেট-৪৫ (Learjet 45) বিমানটি। সেই বিপর্যয়ে অজিত পওয়ার-সহ পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে এবার বিদেশের বিশেষ ল্যাবরেটরির দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা (AAIB)।

ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্ল্যাক বক্স:
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে যে দু’টি ফ্লাইট রেকর্ডার বা ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলি ভয়াবহ আগুন ও প্রচণ্ড তাপে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এল-৩ কমিউনিকেশনস-এর তৈরি ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (DFDR) থেকে তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, আসল রহস্য লুকিয়ে আছে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে (CVR)। হানিওয়েল সংস্থার তৈরি এই যন্ত্রটি থেকেই জানা যাবে পাইলটদের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন। কিন্তু যন্ত্রটি পুড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে সেই তথ্য উদ্ধার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন বিদেশি সাহায্য?
যেহেতু ককপিট ভয়েস রেকর্ডারটি আমেরিকায় নির্মিত, তাই প্রযুক্তিগত সূক্ষ্মতা ও তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার অনুমোদিত বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এএআইবি (AAIB) সূত্রে খবর, নির্মাতা দেশের ল্যাবরেটরিতে এই যন্ত্র পাঠালে নষ্ট হয়ে যাওয়া ডেটা চিপ থেকে তথ্য উদ্ধার করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যান্ত্রিক গোলযোগ নাকি আবহাওয়া—ঠিক কী কারণে বিমানটি ল্যান্ডিংয়ের ঠিক আগে ভেঙে পড়ল, তার উত্তর লুকিয়ে আছে ওই ভয়েস রেকর্ডারের ভেতরেই।

তদন্তের পরবর্তী ধাপ:
ইতোমধ্যেই উদ্ধার হওয়া ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার থেকে বিমানের গতিবিধি ও প্রযুক্তিগত প্যারামিটারগুলো খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তদন্তকারীদের মতে, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করা গেলে পাইলটরা কোনো জরুরি সংকেত দিয়েছিলেন কি না বা ইঞ্জিনে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে। গোটা দেশ এখন তাকিয়ে রয়েছে সেই অন্তিম মুহূর্তের কথোপকথনের দিকে, যা হয়তো এই হাই-প্রোফাইল বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য প্রকাশ্যে আনবে।