‘তুঘলকি কমিশন!’ ৭ আধিকারিককে সাসপেন্ড করতেই নির্বাচন কমিশনের ওপর চরম চটলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজভবন বনাম নবান্ন সংঘাতকে ছাপিয়ে এবার বড় হয়ে দেখা দিল নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশন লড়াই। মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) ‘তুঘলকি কমিশন’ এবং ‘টর্চার কমিশন’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে চলা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপই এই ক্ষোভের মূলে।
কী নিয়ে এই বিতর্ক?
বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশনের একটি চিঠিতে। সেখানে রাজ্যের সাত জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও বিধিবদ্ধ ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের চাপে রাজ্য সরকার তাঁদের সাসপেন্ড করতে বাধ্য হলেও মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, সরকার এই আধিকারিকদের পাশেই আছে। মমতার দাবি, কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁদের ডিমোট করা হয়েছে, আমরা তাঁদের প্রমোট করব। তাঁদের অন্য প্রশাসনিক কাজে লাগানো হবে।”
৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন উপেক্ষা করে তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের (বিজেপি) কথায় কমিশন কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “বিজেপির আইটি সেলের মহিলারা এআই (AI) ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং মহিলাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
ভয় দেখানোর সংস্কৃতি:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘তুঘলক’ ও ‘হিটলার’-এর সঙ্গে তুলনা করে মমতা বলেন, জেলাশাসকদের ভিডিও কনফারেন্সে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “আইনের একটা সীমা আছে, সেই সীমা লঙ্ঘন করলে মানুষ জবাব দেবে। ২০২৬-এর পর এই সরকার (কেন্দ্র) আর থাকবে না।” প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সম্প্রতি হওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।