৫৫৮ কোটি টাকায় ভোলবদল! কলকাতা মেট্রোয় এবার ২৫০ ডিগ্রি তাপেও চলবে এসি, বড় চমক যাত্রীদের জন্য

কলকাতা শহরের লাইফলাইন কলকাতা মেট্রো। গত বছরের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে একযোগে তিনটি নতুন রুটের উদ্বোধন হলেও, পুরনো রুটের যাত্রী দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছিল না। যান্ত্রিক গোলযোগ থেকে শুরু করে সুড়ঙ্গের অস্বস্তিকর পরিবেশ—নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এবার সেই সমস্ত অভিযোগের স্থায়ী সমাধানে কোমর বেঁধে নামছে কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয় করে মেট্রোর পরিকাঠামোয় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন।

বিশাল বাজেটে আধুনিকীকরণ:
মেট্রো সূত্রের খবর, এই বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হবে মূলত টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (TVS) এবং এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম (ECS) উন্নত করার কাজে। বর্তমানে মেট্রোর সুড়ঙ্গের বাতাস ঠান্ডা রাখার জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার অধিকাংশ যন্ত্রাংশই কার্যত অকেজো বা মেয়াউত্তীর্ণ। ইঞ্জিনিয়ারদের আশঙ্কা ছিল, দ্রুত সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা এতটাই উন্নত হবে যে ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও সুড়ঙ্গের বাতাস সচল এবং ঠান্ডা রাখতে সক্ষম হবে।

কেন এই পরিবর্তন জরুরি ছিল?
কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ করিডোর বা ব্লু-লাইন মূলত মাটির গভীর সুড়ঙ্গ দিয়ে যাতায়াত করে। এই দীর্ঘ সুড়ঙ্গে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জটিল কাজ। বর্তমানে জল-নির্ভর পদ্ধতিতে সুড়ঙ্গ ঠান্ডা রাখা হয়, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ৪৬টি কুলারের মধ্যে অন্তত ৩০টি এখন বিকল হওয়ার মুখে। ফলে যাত্রীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এই আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি।

কবে শেষ হবে কাজ?
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় কমবে, অন্যদিকে আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে সুড়ঙ্গের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে। শুধু নতুন রুট নয়, পুরনো রুটের যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকেও বিশ্বমানের করে তুলতে এই মেগা প্রজেক্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।