নিউ টাউনের অভিজাত আবাসনে ‘বিষ’ জল! অসুস্থ শিশুসহ বহু বাসিন্দা, পরিস্থিতি কি ইন্দোর-হরিয়ানার মতো?

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর কিংবা হরিয়ানার পালওয়াল— ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন দূষিত পানীয় জল খেয়ে মৃত্যুর খবর আসছে, ঠিক তখনই কলকাতার উপকণ্ঠে নিউ টাউনের এক অভিজাত আবাসনে দেখা দিল ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট। নিউ টাউনের সাপুরজি সুখবৃষ্টি আবাসনের ‘ই-ব্লক’-এর কয়েকশো বাসিন্দা গত কয়েকদিন ধরে বমি, তীব্র জ্বর এবং শরীরে যন্ত্রণার মতো সংক্রমণে ভুগছেন। অভিযোগের তির সরাসরি আবাসনের নোংরা রিজার্ভার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের দিকে।

আবাসিকদের ক্ষোভ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
৫২২টি টাওয়ার সম্বলিত এই বিশাল আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানীয় জল থেকে পচা গন্ধ বেরোচ্ছে এবং জলের রঙ হলদেটে হয়ে গিয়েছে। আবাসিক সুধীর মণ্ডলের দুই মেয়ে এই বিষাক্ত জল পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বনশ্রী নাগ নামে এক বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “বিগত তিন বছর ধরে এখানকার রিজার্ভার বা পাইপলাইন পরিষ্কার করা হয়নি। আমার দেড় বছরের সন্তান আজ অসুস্থ। অথচ আবাসন কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই।” বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই আজ এই মহামারি সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
খবর পেয়েই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি আসরে নামে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ (NKDA)। আবাসনের ভেতরেই বসানো হয়েছে বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প। এনকেডিএ-র এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, সরকারি সরবরাহ করা মূল জললাইনে কোনও সমস্যা নেই; থাকলে গোটা নিউ টাউনে সংক্রমণ ছড়াত। সমস্যাটি নির্দিষ্ট ওই আবাসনের অভ্যন্তরীণ ট্যাঙ্কে। ইতিমধ্যেই ১০০টির বেশি ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা হয়েছে এবং কয়েক লক্ষ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন রিজার্ভার সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। জলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে তদন্তের জন্য।

বিপজ্জনক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ইন্দোরে দূষিত জলের কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সম্প্রতি হরিয়ানাতেও ১২ জনের প্রাণ গিয়েছে। কলকাতার দোরগোড়ায় এই ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বিলাসবহুল আবাসনের চোখধাঁধানো পরিকাঠামোর আড়ালে যে প্রাথমিক পরিষেবা হিসেবে পরিশ্রুত পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে না, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট।