২ টাকার শেয়ার এখন ১৩৮! ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেই হাতে আসত ৬২ লক্ষ, চিনে নিন এই মাল্টিব্যাগার

শেয়ার বাজারে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জাদুদণ্ড নেই ঠিকই, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক স্টকে ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ করলে যে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডায়মন্ড পাওয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (Diamond Power Infrastructure)। মাত্র কয়েক মাস আগেও যে স্টকের দাম ছিল চায়ের কাপের চেয়েও কম, আজ তা আকাশছোঁয়া রিটার্ন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পকেটে লক্ষ লক্ষ টাকা পৌঁছে দিচ্ছে।

অবিশ্বাস্য উত্থানের খতিয়ান:
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই শেয়ারটির দাম ছিল মাত্র ২.২২ টাকা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি যে, বর্তমানে এই শেয়ারের দর ১৩৮ টাকার ঘর ছুঁয়ে ফেলেছে। অর্থাৎ গত এক বছরে এই স্টকটি ৬,০০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ হিসেবে দেখলে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোনো বিনিয়োগকারী যদি এই কোম্পানিতে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে আজ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাখতেন, তবে সেই ১ লক্ষ টাকার বর্তমান বাজারমূল্য হতো প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা!

কেন এই রকেটের গতি?
ডায়মন্ড পাওয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার মূলত পাওয়ার কেবল এবং হাই-ভোল্টেজ ইলেকট্রিক তার উৎপাদন করে থাকে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং শিল্পক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সংস্থার পণ্যগুলি অপরিহার্য। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কোম্পানির অর্ডার বুক অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের রাজস্ব (Revenue) ক্রমাগত বাড়ছে। এই ব্যবসায়িক শ্রীবৃদ্ধিই শেয়ার বাজারে সংস্থার দর হু হু করে বাড়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ:
২০২৩ সালের শেষের দিকেই এই স্টকটি ৬০০ শতাংশের বেশি রিটার্ন দিয়েছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪-এ তা আরও ৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মাঝে বিনিয়োগকারীদের একাংশ প্রফিট বুকিং বা লাভ তুলে নেওয়ার ফলে দরে কিছুটা পতন দেখা দিলেও, বর্তমানে স্টকটি আবার স্থিতিশীল অবস্থায় লেনদেন করছে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বা ‘লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট’ যে মাল্টিব্যাগার রিটার্ন দিতে পারে, তার আদর্শ উদাহরণ এই সংস্থা।

সতর্কবার্তা:
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। কোনো স্টকের অতীত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের গ্যারান্টি দেয় না। তাই ডায়মন্ড পাওয়ারের মতো মাল্টিব্যাগার স্টকে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই সার্টিফাইড আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।