সংসদে চন্দ্রশেখরের ভাষণ, পিছনে সৌগত-জুনের জমাটি আড্ডা! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটপাড়ায় মিমের বন্যা

সংসদের বাজেট অধিবেশন মানেই দেশ গঠনের গুরুগম্ভীর আলোচনা, তপ্ত বাক্যবিনিময়। কিন্তু সেই আবহেই ধরা পড়ল এক ভিন্ন ছবি। ঠিক যেন স্কুলের ক্লাসরুমের ব্যাকবেঞ্চার! সংসদের অন্দরমহলে যখন আজাদ সমাজবাদী পার্টির সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ বক্তব্য রাখছেন, ঠিক তখনই তাঁর পিছনের বেঞ্চে বসে খোশমেজাজে গল্পে মশগুল থাকতে দেখা গেল তৃণমূলের দুই সাংসদকে— একজন বর্ষীয়ান সৌগত রায় এবং অন্যজন জুন মালিয়া।
ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে: ঘটনাটি গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারের হলেও, মঙ্গলবার রাত থেকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চন্দ্রশেখর আজাদ যখন তাঁর বক্তব্য পেশ করছেন, ঠিক তাঁর পিছনের সারিতে বসে সৌগত রায় এবং জুন মালিয়া নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি ও গল্প করছেন। কখনও সৌগত রায়কে গালে হাত দিয়ে অবাক ভঙ্গিমায় জুনকে কিছু বলতে দেখা যাচ্ছে, কখনও আবার দুজনেই মুচকি হাসছেন। সংসদের মতো জায়গায় দুই জনপ্রতিনিধির এমন ‘ক্যাজুয়াল’ মেজাজ দেখে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে হাসির রোল, তৈরি হয়েছে অজস্র মিম।
সুকান্ত মজুমদারের তোপ: তৃণমূল সাংসদদের এই আচরণকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না গেরুয়া শিবির। বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সরাসরি খোঁচা দিয়ে বলেন, “সংসদে গম্ভীর আলোচনা চলে। গল্প করার ইচ্ছা থাকলে তো বাইরে ক্যান্টিন রয়েছে, সেখানে গেলেই হয়। সংসদের ভিতরে এমন আচরণ শোভা পায় না।”
সাফাই দিলেন সৌগত রায়: বিজেপির আক্রমণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের মুখে পড়ে মুখ খুলেছেন সৌগত রায়। বর্ষীয়ান এই সাংসদ বিষয়টিকে লঘু করে দেখিয়ে বলেন, “সাড়ে পাঁচশো সাংসদের মধ্যে যখন একজন কথা বলেন, তখন পিছনের ৩০০ জনই নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। এটা খুব স্বাভাবিক। আমি তো আমার নিজের দলের সাংসদের সঙ্গেই কথা বলছিলাম।” যদিও ঠিক কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে এত হাসাহাসি চলছিল, তা খোলসা করেননি তিনি। অন্য দিকে, এই বিতর্ক নিয়ে অভিনেত্রী-সাংসদ জুন মালিয়া এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি, বজায় রেখেছেন নীরবতা।