ফেব্রুয়ারিতেই কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি! দক্ষিণবঙ্গের কোন জেলাগুলোতে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি?

শীতের আমেজ এখনো বাংলা থেকে পুরোপুরি বিদায় নেয়নি ঠিকই, কিন্তু এর মধ্যেই বসন্তের মৃদু বাতাসের বদলে কালবৈশাখীর আগাম সতর্কবার্তা ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ মানুষকে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে কালবৈশাখী সচরাচর দেখা যায় না, তবুও বায়ুমণ্ডলীয় দ্রুত পরিবর্তনের ফলে এমন এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কলকাতার বর্তমান আবহাওয়া:
কলকাতার আকাশ আজ মূলত পরিষ্কার থাকলেও ভোরের দিকে হালকা কুয়াশার দাপট দেখা গিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ মহানগরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ, যা অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

কালবৈশাখীর সম্ভাবনা ও নিম্নচাপের ভ্রুকুটি:
সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে কালবৈশাখী দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের আকাশে ১২.৬ কিমি উচ্চতায় ১৩০ নটিক্যাল মাইল বেগে পশ্চিমা জেট স্ট্রিম প্রবাহিত হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যার ফলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়বে এবং কিছু জেলায় ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে কুয়াশার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলাগুলির পরিস্থিতি:
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলা শুষ্ক থাকলেও বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং মুর্শিদাবাদে পারদ ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে রাতের দিকে শীতের আমেজ থাকলেও দিনের বেলা রোদের তেজ বাড়বে। আগামী ৪ দিনে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ ও সিকিম:
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে। সিকিমে হালকা তুষারপাত বা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলি মূলত শুষ্ক থাকবে। সব মিলিয়ে শীতের বিদায়বেলায় দক্ষিণবঙ্গ এক ক্রান্তিকালীন আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ভোরের কুয়াশা আর দুপুরের চড়া রোদের মাঝে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।