নবান্ন-কমিশন দ্বৈরথে ইতি? চাপের মুখে ৭ সরকারি অফিসারকে সাসপেন্ড করল রাজ্য!

রাজ্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘ সংঘাতের শেষে অবশেষে পিছু হঠল নবান্ন। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)-কে সাসপেন্ড করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। এর পাশাপাশি বসিরহাটের বিডিও-কেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। কমিশনের কড়া মনোভাবের মুখে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সংঘাত বনাম নির্দেশ পালন: সম্প্রতি ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা সংযুক্তিকরণ নিয়ে নবান্ন ও কমিশনের মধ্যে প্রবল টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেও এতদিন তা কার্যকর করেনি রাজ্য। এমনকি দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল মুখ্যসচিবকে। শেষ পর্যন্ত আজ ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার সবুজ সংকেত দিয়েছে রাজ্য সরকার।

মমতার পাশে থাকার বার্তা: এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কমিশনের নির্দেশ থাকলেও ওই আধিকারিকদের চাকরি থেকে পুরোপুরি সরানো হচ্ছে না। নির্বাচনের কাজ না করলেও তাঁরা রাজ্য সরকারের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কমিশন তুঘলকি শাসন চালিয়ে অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, কোনো কর্মীকে অন্যায়ভাবে হেনস্থা করা হলে রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়াবে।”

বিডিও-সহ ৭ জনের ভবিষ্যৎ: সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকরা যে সমস্ত দফতরে কর্মরত, সেখানকার সচিবদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। রাজ্য সরকার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এই পদক্ষেপ নিলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী— যাঁদের কমিশন ‘ডিমোশন’ দেবে, সরকার তাঁদের ‘প্রমোশন’ দেবে। অর্থাৎ, একদিকে কমিশনের নির্দেশ পালন আর অন্যদিকে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখা— এই দুইয়ের ভারসাম্যে ভোটযুদ্ধ আরও তপ্ত হয়ে উঠল।