“ওরা ৪২০ হলে আমি ৪৪০ ভোল্ট!” বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মাছ-মাংস নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

বাংলার ভোট রাজনীতিতে এবার সরাসরি মানুষের হেঁশেলে হানা দিল বিজেপি! মঙ্গলবার এক জনসভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ ও মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেবে। বিহারের উদাহরণের কথা টেনে মমতা বলেন, “শুনেছি বিহারে বলা হচ্ছে খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। তাহলে কি সাধারণ মানুষ এখন শপিং মলে গিয়ে মাছ কিনবে? আমাদের মাছ বিক্রেতারা রাস্তায় টাটকা মাছ বিক্রি করে রুটি-রুজি কামায়, সেই অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি।”

নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি’ আক্রমণ: এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশনও। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করবেন না। ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে কারচুপি করা হচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, সমস্ত বৈধ ভোটারদের তালিকায় রেখে স্বচ্ছ নির্বাচন করে দেখান।” সিইসি-কে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, “অবসর নেওয়ার পর কোন পদটা টোপ হিসেবে দেওয়া হয়েছে? রাষ্ট্রপতি নাকি রাজ্যপাল?”

৪৪০ ভোল্টের শক ও ব্যক্তিগত হুঁশিয়ারি: বিজেপি নেতাদের ‘মানসিক সমস্যা’ রয়েছে বলে দাবি করে মমতা বলেন, “আপনারা যদি ৪২০ (প্রতারক) হন, তবে মনে রাখবেন আমি ৪৪০ ভোল্ট। আমাকে উস্কানি দেবেন না, দিলে কাদের আশ্রয় দিয়েছেন সেই সব ইতিহাস-ভূগোল ফাঁস করে দেব।” পেগাসাস ব্যবহারের পাল্টা হিসেবে তিনি দাবি করেন, বিজেপির অন্দরেও তাঁর লোক আছে যারা সব খবর পৌঁছে দেয়।

অফিসারদের পাশে থাকার বার্তা: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে যে অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিশন কাউকে ডিমোশন দিলে সরকার তাঁকে প্রমোশন দেবে। অফিসারদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।” কেন্দ্রীয় সংস্থা এলআইসি বা রেল থেকে ‘বিজেপি-ঘেঁষা’ লোকেদের মাইক্রো-অবজার্ভার হিসেবে পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। সব মিলিয়ে ভোটের আগে মেজাজ চড়িয়ে একাই লড়ার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী।